৫ হাজার ৩৭০ জনের প্রাণ গেছে সড়কে প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু ১৫

সেভ দ্য রোডের সংবাদ সম্মেলনে তথ্য
৫ হাজার ৩৭০ জনের প্রাণ গেছে সড়কে
প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু ১৫

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে গড় তথ্য পেয়েছে; তাতে উঠে এসেছে যে, প্রতিদিন সড়কপথ দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৫ জন। পুরো বছরে সড়কপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫১২ আর ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর বাংলাদেশে সড়কপথ দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৩৭০ জন নিহত হন। আহত হন ৭০ হাজার ২২২ জন। তাতে গড়ে আহত হন প্রতিদিন ১৯৬ জন। ২০১৭ সালে নৌ দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতর সংখ্যা বস থাকলেও ২০২১ সালে এসে ৭১২ টি নৌপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। রেলপথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় আকাশ-সড়ক-রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত রাখার লক্ষ্যে একমাত্র স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর সংবাদ সম্মেলন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। লিখিত প্রতিবেদন পাঠ করবেন সংগঠনের মহাসচিব শান্তা ফারজানা। সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম।  প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগ সাভার আঞ্চলিক শাখার সভাপতি শওকত হোসেন, পাথরঘাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন, সেভ দ্য রোড-এর ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনজুমান আরা শিল্পী, অনলাইন প্রেস ইউনিটির ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব রানা, সুনামগঞ্জ সভাপতি আহমদ আল কবির চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য ওয়াজেদ রানা, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মোখলেসুর রহমান তোতা, সজিব কায়েস, সড়কপথ দুর্ঘটনায় আহত সুলতানা রাত্রী, ঢাকা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা, এ্যাড. ফখরুল ইসলাম, গাইবান্ধা শাখার সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় লিখিত বক্তব্যে সেভ দ্য রোড মহাসচিব শান্তা ফারজানা আরো উল্লেখ্য করেন, ৭ হাজার ৫১২ টি সড়কপথ দুর্ঘটনায় আমরা যে স্বজন-প্রিয়জনদেরকে হারিয়েছি চলতি বছরে; তাদের জন্য দোয়া-প্রার্থনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলীর পাশাপাশি সরকার-বীমা ও মালিক শ্রেণির কাছে সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে একটা দাবি বরাবরের মত আজো জানাচ্ছে সেভ দ্য রোড। আর তা হলো- পথ দুর্ঘটনায় আহতদেরকে ৩ লক্ষ ও নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যাতে করে অপূরণীয় এই ক্ষতি কিছুটা হলেও সামলে নিতে পারে স্বজন-প্রিয়জন হারানো পরিবারটি; একই সাথে ঘুরে দাঁড়াতে পারে আহত ব্যক্তিটি ও তার পরিবার। এ বছরের পথ দুঘটনায় নিহত ৫ হাজার ৩৭০ জনের মধ্যে আমরা ৪২ জন চালক, ৪ জন চালকের সহযোগি, ৪৭২ জন নারী, ১৭৭ জন শিশু,  ১৭৭ জন শিক্ষার্থী, ০৭ জন সাংবাদিক, ১১ জন চিকিৎসক, ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্য, ২৭ জন রাজনৈতিক নেতাও হারিয়েছি। গণমাধ্যম থেকে তথ্য নিয়ে দেখেছি- সংগঠিত দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩৩ শতাংশ বাস, ৩৭.৫৫ শতাংশ মোটরসাইকেল ১২.২৫ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, ৫.৮২ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৩.১২ শতাংশ অটোরিক্সা, ২.৭৮ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৫.৪৮ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সংগঠিত দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩০ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ২০ শতাংশ সড়কপথের বেহাল দশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায় ও ৬ শতাংশ অনান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আহতদের প্রতি সমবেদনা এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
সালাম ও শুভেচ্ছা। আপনারা জানেন, ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসিতে আত্মাপ্রকাশের পর থেকে আকাশ-সড়ক-রেল ও নৌপথকে দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক একমাত্র স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড বিভিন্ন কর্মসূচি, গবেষণা ও ক্যাম্পেইন করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় দেশের প্রথম সারির পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্স চ্যানেলে প্রকাশিক-প্রচারিত তথ্যর আলোকে প্রতি বছর ৪ পথ দুর্ঘটনার তথ্য ও উত্তরণকথা জানানোর পাশাপাশি ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে সংবাদ সম্মেলন করে আসছি। একই সাথে তেলের দাম বা ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ যেমন জানিয়েছি, তেমনি জনগনকে সচেতন করেছি ফুটওভার ব্রীজ, ফুটপাত ব্যবহারসহ নিয়ম মেনে পথ চলতে। করোনা পরিস্থিতিতে চালক-যাত্রীদের মাঝে স্যানিটাইজার-মাস্ক বিরতণ কর্মসূচিও পালন করেছি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবা হিসেবে। যার অর্থ যোগান দিতে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ ব্যয় থেকে সঞ্চয় করার অর্থ এখানে যুক্ত করেছি। শুধু এখানেই শেষ নয়; আরটি-নাহরিক টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বিআরটিএ করোনা পরিস্থিতিতে ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করলে সেভ দ্য রোড এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে। পরে অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। আমরা গণমাধ্যমের কল্যাণে দেখছি- প্রায় প্রতিদিন নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে পথ দুঘর্টনায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কপথ-নৌ-আকাশ ও রেলপথে ঘটে যাওয়া অসংখ্য দুর্ঘটনার মত অবিরত বাংলাদেশেও ঘটছে চারটি পথেই নিহত-আহত হওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এমন নির্মম দুর্ঘটনাগুলোকে সেভ দ্য রোড-এর গবেষণা সেল পর্যবেক্ষণ করে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে গড় তথ্য পেয়েছে; তাতে উঠে এসেছে যে, প্রতিদিন সড়কপথ দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৫ জন। পুরো বছরে সড়কপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫১২ আর ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর বাংলাদেশে সড়কপথ দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৩৭০ জন নিহত হন। আহত হন ৭০ হাজার ২২২ জন। তাতে গড়ে আহত হন প্রতিদিন ১৯৬ জন। ২০১৭ সালে নৌ দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতর সংখ্যা বস থাকলেও ২০২১ সালে এসে ৭১২ টি নৌপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। রেলপথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন। আকাশ পথে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি, যা আমাদের জন্য সুখকর। আমরা আশা করবো এভাবেই বাংলাদেশের আকাশপথ থাকবে দুর্ঘটনামুক্ত অবিরাম।

আকাশপথ-এর কথা সুখকর হলেও দুঃখকর কথা হলো এই যে, ৭ হাজার ৫১২ টি সড়কপথ দুর্ঘটনায় আমরা যে স্বজন-প্রিয়জনদেরকে হারিয়েছি চলতি বছরে; তাদের জন্য দোয়া-প্রার্থনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলীর পাশাপাশি সরকার-বীমা ও মালিক শ্রেণির কাছে সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে একটা দাবি বরাবরের মত আজো জানাচ্ছে সেভ দ্য রোড। আর তা হলো- পথ দুর্ঘটনায় আহতদেরকে ৩ লক্ষ ও নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যাতে করে অপূরণীয় এই ক্ষতি কিছুটা হলেও সামলে নিতে পারে স্বজন-প্রিয়জন হারানো পরিবারটি; একই সাথে ঘুরে দাঁড়াতে পারে আহত ব্যক্তিটি ও তার পরিবার। এ বছরের পথ দুঘটনায় নিহত ৫ হাজার ৩৭০ জনের মধ্যে আমরা ৪২ জন চালক, ৪ জন চালকের সহযোগি, ৪৭২ জন নারী, ১৭৭ জন শিশু,  ১৭৭ জন শিক্ষার্থী, ০৭ জন সাংবাদিক, ১১ জন চিকিৎসক, ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্য, ২৭ জন রাজনৈতিক নেতাও হারিয়েছি। গণমাধ্যম থেকে তথ্য নিয়ে দেখেছি- সংগঠিত দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩৩ শতাংশ বাস, ৩৭.৫৫ শতাংশ মোটরসাইকেল ১২.২৫ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, ৫.৮২ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৩.১২ শতাংশ অটোরিক্সা, ২.৭৮ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৫.৪৮ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সংগঠিত দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩০ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ২০ শতাংশ সড়কপথের বেহাল দশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায় ও ৬ শতাংশ অনান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আহতদের প্রতি সমবেদনা এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

প্রিয় সাংবাদিক ও শুভার্থীবৃন্দ
প্রতিদিন-ই মানুষের মৃত্যু খবর গণমাধ্যমের বল্যাণে পাই আমরা। অথচ সত্যটা হলো এই যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্ঘটনামুক্ত পথ তৈরির জন্য। তারপরও বাংলাদেশে সড়কপথে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে কেবল যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক ও  সহযোগি না থাকায়; সড়কপথে প্রাণহানী ঘটেই চলছে ছাত্র-যুব-জনতার। আর রাজধানীতে তীব্র গণপরিবহন সংকট, অন্যদিকে ফিটনেস বিহীন-ত্রুটিপূর্ণ বাস-টেম্পুর অবাধ চলাচলের কারণেও যাচ্ছে প্রাণ। এমন পরিস্থিতির উত্তরণে সেভ দ্য রোড মাত্র ৭ টি দাবি নিয়ে এগিয়ে চলছে। আর দাবিগুলো হলো- ১. বঙ্গবন্ধু ফুটবল লীগের খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কপথ দুর্ঘটনায় নিহত অর্ধশত শিশু-কিশোর-এর স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘নিরাপদ পথ দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। ২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়কপথ পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতিত চালক-সহযোগি নিয়োগ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ সরকারীভাবে দিতে হবে।  ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিত করণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতু সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে নতুন করে কাউকে প্রাণ দিতে না হয়।

প্রিয় সুধীবৃন্দ ও জাতির বিবেক গণমাধ্যম বন্ধুগণ
বছরের পর বছর পথদুর্ঘটনায় নির্মম মৃত্যুর ঘটনাগুলো কেন বারবার ঘটছে? সেই বিষয়ে জানতে গিয়ে দেখা যায় বিআরটিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু অসৎ ব্যক্তির কাজের প্রতি অবহেলা, যাত্রী সাধারণের পক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ ও নজরদারির অভাবে সৃষ্ট এই নৈরাজ্য এবং মহাসংকট ক্রমশ ঘণিভূত হচ্ছে। অথচ সড়কপথ পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি জনবান্ধব যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও এই সেক্টরের নিয়ম শৃঙ্খলা, ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ-ই শীর্ষ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে কমে যেতে পারে সড়কপথ দুর্ঘটনা, কমে যেতে পারে কষ্ট-আহাজারি-কান্না। একই সাথে সচেতনতা প্রয়োজন নাগরিকদের প্রতিটি স্তরে। যাতে করে পথচলার সময় নিয়ম মানেন সবাই।

আকাশ-সড়কপথ- নৌ ও রেলপথে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ ঢাকার রাজপথে সুপরিকল্পিতভাবে পাবলিক বাস বৃদ্ধি এবং যাত্রী হয়রানী-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শুধু চালক নয়; আমাদের পথচারি ও যাত্রীদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। যার প্রাথমিক ধাপ প্রাথমিক-মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্য বইয়ে ‘পথচলাচলে করণীয়’ একটি অধ্যায় রাখা। যেখানে পথ পরাপার কিভাবে করবে, তা শিশু বয়সেই শিখবে প্রাথমিক অঙ্গনে অধ্যায়ণরত শিশু-কিশোরগণ। এরপর মাধ্যমিকে কিভাবে বাহনে চড়বে, টিকিট কাটবে বা ভাড়া পরিশোধ করবে, তার বর্ণনা থাকবে। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিকে বাহন চালানো ও পথ চলার ধারণা নেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। অবশ্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই যে, তৃতীয় শ্রেণীর বইতে একটা ছোট্ট প্রয়াশ সেভ দ্য রোড-এর একের পর এক আন্দোলন ও দাবির ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে। আগামীতে তা বৃহৎ পরিসরে সরকারীভাবে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া আমাদের সময়ের দাবি। একই সাথে সকল পথকে স্বাভাবিক-সুন্দর-পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ করতে সকল পথের সকল বাহনের ভাড়া কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানাচ্ছি ছাত্র-যুব-জনতার পক্ষ থেকে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও টার্মিনালগুলো চাঁদাবাজি মুক্ত রাখতে এবং যানজট নিরসন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধসহ বিশেষ পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গণপরিবহন সেক্টরে সৎ ব্যবসায়ীদের উৎসাহীত করতে জবরদস্তি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণমুক্ত রুট পারমিট সহজিকরণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ঢাকা মহানগরীতে টেম্পু বা হিউম্যান হলারের মতো ক্ষুদ্র যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট পারমিট প্রথা চালু এবং আরামপ্রদ আসন-সংখ্যা ও যৌক্তিক যাত্রীভাড়া নির্ধারণ।

প্রিয় সংবাদযোদ্ধাগণ
আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নেয়ার জন্য। একই সাথে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাবো বিশে^র উন্নত দেশগুলোর মত সারাদেশে সড়কপথে স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষা সার্ভিস’ কার্যকর ভাবে চালুর উদ্যেগ নিন। সেক্ষেত্রে নৌপথে নৌ বাসও চালু করার আহ্বান জানাচ্ছি সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে। সড়কপথে দুর্ঘটনা কমাতে সরকার, পরিবহন মালিক ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের যৌথ উদ্যোগে চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থাকে কার্যকর করার অনুরোধ জানাচ্ছি। যাতে করে পথ হয় লক্ষ্যে পৌছার, নিহত বা আহত হওয়ার মাধ্যম নয়। আমাদের সুপারিশ  চালক, সুপারভাইজার, কন্ডাক্টর (ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ) ও হেল্পারসহ সকল পর্যায়ের পরিবহনকর্মীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, লাইসেন্স, মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র প্রদান, কর্মঘন্টা নির্ধারণ, উৎসব বোনাস ও ওভারটাইম ভাতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বেপরোয়া দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়কপথ, মহাসড়কপথ ও আঞ্চলিক সড়কপথগুলো ডাবল লেন ও ৪ লেনে উন্নিতকরণসহ নিয়মিত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সতর্কীকরণ নোটিশ জারির সাথে ফুটপাতকে দখলমুক্ত করতে হবে। সকল পথের সকল বাহনে ‘যাত্রীবিমা’ এবং যাত্রী ও পণ্যবাহী সব গাড়িতে চালক, কন্ডাক্টর ও হেল্পারের জীবন বিমা চালু করতে হবে।

সর্বশেষে সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে বলতে চাই, বিচারের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে দুর্ঘটনামুক্ত পথ চাই। এই পথকে শান্তি ও সমৃদ্ধির করে গড়ে তুলতে একের পর এক ফ্লাইওভার বা ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ নয়; রাস্তা প্রশস্ত ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারিদের চলাচল উপযোগি করার দাবি বরাবরের মত জানাচ্ছি। উন্নত বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা বাংলাদেশে সাইকেল লেনসহ বাহন অনুযায়ী আলাদা আলাদা লেন নির্মাণেরও দাবিও সেভ দ্য রোড জানাচ্ছে দুর্ঘটনামুক্ত পথ-এর লক্ষ্যে আজকের এই বাৎসরিক প্রতিবেদন পাঠ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনের পক্ষ থেকে। সবাইকে কৃতজ্ঞতা-ভালোবাসা-শ্রদ্ধা আবারো…

(শান্তা ফারজানা)
মহাসচিব, সেভ দ্য রোড
০১৭৯১৪০৭০৪৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *