১৮টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

১৮টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ,সেতু ভাঙা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে প্রায় আড়াই বছর ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায়

সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার। সেই সেতু প্রায় আড়াই বছর ধরে ভেঙে আছে। দীর্ঘদিনেও সেতুটির সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ১৮টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য উপজেলা শহরে নিয়ে বিক্রি করতে তাঁদের ঘুরতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার কিলোমিটার। এ চিত্র রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার খারুভাজ নদীর ওপর নির্মিত নেকিরহাট সেতুর।

 

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের নেকিরহাট ও মমিনপুর ইউনিয়নের খারুবাদ গ্রামের মধ্যবর্তী খারুভাজ নদীর ওপর নেকিহাটর সেতুটির অবস্থান। হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের সঙ্গে রংপুর শহরের যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫.৫ মিটার প্রস্থ সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা পরিষদ। হাড়িয়ারকুঠি থেকে এই সেতু পেরিয়ে ১১ কিলোমিটার গেলে রংপুর শহরে যাওয়া যায়।

সেতুটির পশ্চিম পাশের হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের বারোঘড়িয়া, নেকিরহাট, তেলিপাড়া, শাহপাড়া, শাওনাপাড়া, জুম্মাপাড়া, কিসামত মেনানগর, আসামীগঞ্জ, সৈয়দপুর, সরকারপাড়া, ডাঙ্গীরহাট, পাতাইপাড়া গ্রামের অবস্থান। এসব গ্রামের অনেকের জায়গা–জমি রয়েছে সেতুটির পূর্ব পাশে। এ ছাড়া রয়েছে নেকিরহাট বাজার, নেকিরহাট দাখিল মাদ্রাসা। সেতুটির পূর্ব পাশের খারুয়াবাদ, মমিনপুর, চানকুঠি, তবাজার, মুন্সিরহাট, সেন্টারের হাট ও গ্রামের অনেকের জায়গা–জমি রয়েছে সেতুর পশ্চিম পাশে। ফলে উভয় পাশের মানুষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ এ সেতু।

 

উপজেলার শাওনাপাড়া গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী (৫০) বলেন, ‘বাবা, আড়াই বছর থাকি সেতু কোনা ভাঙি পড়ি আছে। তাও কায়ও ঠিক করোছে না। এটে একনা সেতুর খুব দরকার। সেতু কোনা হইলে হামার কষ্ট কমবে। ধান, পাট গাড়িত তুলি শহরোত নিগি বেচপার পামো। ছাওয়া-ছোটগুলারও স্কুল–কলেজ গেইতে সমস্যা হইবে না।’

 

বিজ্ঞাপন

বারোঘড়িয়া গ্রামের আরেক কৃষক আমিন উদ্দিন (৪৫) বলেন, ‘ভাঙা পুল কোনা ঠিক না কারায় বাবা হামার খুব লস হওছে। এ্যালা হামরা ধান, পাট, সবজি, ভুট্ট রিকশা-ভ্যান, ট্রাক-ট্রলিত করি শহরোত নিগার পাওছি না। বিয়া-শাদি, অনুষ্ঠানের গাড়ি আইসে না। পুল কোনা ভাঙি যায়া খুব বেইজ্জতোত পড়ি আছি।’

 

সেতুর পূর্ব পাশে আমন ধানখেতে কীটনাশক দিচ্ছেলেন সেতুর পশ্চিম দিকের তেলিপাড়া গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘সরকার হামার পেকে দ্যাখোছে না। হামার কষ্ট কায়ও বোঝে না। হামরা যে ফসল গাড়িত করি বাড়িত নিগবার পাওছি না। জমির আইলোতে ফসল মাড়ি চার কিলোমিটার বেশি ঘুরি পারঘাট দিয়া বাড়িত নিগার নাগোছে। এতে হামার হয়রানি আর খরচ বেশি হওছে।’

 

বিজ্ঞাপন

কথা হয় সেতুর পাশে গড়ে ওঠা নেকিরহাট বাজারের মুদিদোকানি সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাই কী কমো কষ্টের কথা। আড়াই বছর থাকি দলে দলে লোকজন হামার দুর্দশা দেখছে। সাংবাদিকেরা ভিডিও করি, ছবি তুলি টেলিভিশন পেপারপত্রিকাত দেওছে। সরকারের লোকজনও আসি সেতু কোনা মাপজোখ করি যাওছে। কিন্তু সেতু হওছে না। এটে সেতু না হওয়ায় হামার ব্যবসা ভালো চলোছে না। এটে একখান সেতু বানাইতে সমস্যা কী বুঝি না।’

 

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পানির স্রোতে সেতুটির পশ্চিম অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। এরপর থেকে ওই সেতুর ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছরেও ওই স্থানে সেতুটি সংস্কার ও নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় সেতুর আশপাশের গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চার কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে তাঁদের পারঘাট সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ হায়দার জামান বলেন, ‘ভাই, আমাদেরও খারাপ লাগে। কিন্তু বরাদ্দ না পেলে সেতু বানাব কী দিয়ে। এক বছর আগে বরাদ্দ চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো বরাদ্দ মেলেনি। বরাদ্দ পেলেই ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *