শ্রীপুরে প্রধান শিক্ষকের মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে নিজের বিয়ে ঠেকাল স্কুল ছাত্রী

শ্রীপুরে প্রধান শিক্ষকের মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে নিজের বিয়ে ঠেকাল স্কুল ছাত্রী

শ্রীপুর (গাজীপুর) আব্দুস সালাম রানা

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে নিজের বিয়ে ঠেকাল এক স্কুল ছাত্রী।

ছাত্রীটি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারে এসএমএস পাঠিয়ে জোরপূর্বক বিয়ের কথা জানিয়ে সহযোগিতা চায়। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের কর্মরত সংবাদকর্মীরা ঐ ছাত্রীর বাড়িতে উপস্থিত হলে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রী নাদিয়া (১৬) শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের নূরুল হুদার কন্যা। সে শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে মেসেঞ্জারে এসএমএস লিখেছেন স্যার আমি নাদিয়া, প্রিজ স্যার আমাকে হেল্প করেন, আমার আব্বু আম্মু আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিচ্ছে,

স্যার আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি, বানিজ্য শাখায় আমার রোল (০১)। এরপর শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রীপুরের গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি জানান।

স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ভুক্তভোগী নাদিয়া জানান, আজ একটি ছেলের সঙ্গে আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিতে চাচ্ছিলো। বাড়িতে সকল প্রস্তুতি ছিলো বিয়ের। এরপর আমি বুঝতে পেরে পাশের বাড়ির একটি মোবাইল ফোন থেকে আমার ফেসবুক আইডিতে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের কাছে

এসএমএস পাঠিয়ে সহযোগিতা চাই। এরপর প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা এলে বিয়ে ভেঙে যায়। আপাতত বিয়ে ভেঙে গেছে, আবারও এরকম হলে সহযোগিতা চাইবো।

শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার মেসেঞ্জারে দশম শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়া তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিচ্ছে জানিয়ে এক ক্ষুদে বার্তা পাঠায়।

এর পরপরই আমি বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীদের জানিয়েছি। পরবর্তীতে স্কুল ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম সকলের সময়কে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশে খবর দেয়া হয়েছে। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন সব সময় সজাগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *