শেষ বলে কিস্তিমাত

শেষ বলে কিস্তিমাত উইন্ডিজের
সেমি ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই শেষপর্যন্ত থেমে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ৩ রানে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। এর মধ্য দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ রাউন্ডে টানা তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল চার রান। কিন্তু পেসার আন্দ্রে রাসেলের ইয়োর্কার ব্যাটেই লাগাতে পারেননি স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকা কাপ্তান মাহমুদুল্লাহ। ২৪ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থেকেও পরাজিত সৈনিকের বেশে সেমি ফাইনালের স্বপ্নকে বিদায় জানাতে হয়েছে তাকে।

এর আগে টস জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটিয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। মন্থর উইকেটে ক্যারাবীয়দের ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারের ঝড়ে ১৪৩ লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথমবার ওপেনিংয়ে সাকিব আল হাসানকে নামিয়েছিলেন কাপ্তান মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু সুপার টুয়েলভে অভিষেক ওপেনিংয়ে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সাকিব না। ফিরেছেন মাত্র ৯ রানে। সাকিবের পর ফিরেছেন নাঈমও। ওপেনার নাঈম ফেরেন ১৯ বলে ১৭ রান করে।
সাকিব-নাঈম ওপেনিংয়ে দেখে শুনেই খেলছিলেন। রান তুলছিলেন স্কোরবোর্ড নজর রেখে। ৪ ওভারে উঠে ২০ রান। বিপদ ঘটে পঞ্চম ওভারে। আন্দ্রে রাসেলের বোলিংয়ে দ্বিতীয় বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন নাঈম। কিন্তু মিডউইকেটে তার ক্যাচ নিতে পারেননি হেইডেন ওয়ালশ।

কিন্তু পরের বলে ঠিকই তুলে নিয়েছেন সাকিবের উইকেট। লিডিং এজ হয়ে ৯ রানে সাকিব ধরা পড়েন হোল্ডারের হাতে।
সাকিব নাইমের বিদায়ের পর সৌম্য সরকারকে সঙ্গী করে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করেন বিশ্বকাপ জুড়ে অফ ফর্মে থাকা লিটন। দুজন মিলে ৩১ রানের শক্ত জুটি তৈরির পর দলীয় ৬০ রানে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। উইকেটের পতনের আগে ১৩ বলে ১৭ রান করেছিলেন তিনি। এরপর মাত্র ৮ রান করেই বাজে শট খেলে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। অপরপ্রান্তে থাকা লিটন তখনো চাপ সামলে কামব্যাক ইনিংস খেলে যাচ্ছিলেন ম্যাচ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখে। মুশফিকের বিদায়ের পর কাপ্তান মাহমুদুলাহর সাথে ৪০ রানের জুটিতে ম্যাচ জয়ের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছেও গিয়েছিল লিটোন। তবে অঘটন ঘটে ১৮ তম ওভারের শেষ বলে।

জিততে যখন ৭ বলে প্রয়োজন ১৩ রান, তখন ব্রাভোর বলে ছক্কা হাকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে থাকা পৃথিবীর অন্যতম লম্বা ক্রিকেটার জেসন হোল্ডারের হাতে তালুবন্দী হন তিনি। সাজঘরে ফেরেন আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ বলে ৪৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে। এর পর আফিফ হোসেনকে নিয়ে ৬ বলে ১৩ রান করার সব চেষ্টাই জারি রেখেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু ক্রিকেটের ঈশ্বরের পরিকল্পনায় দিনটা আজ টাইগারদের ছিলনা। শেষপর্যন্ত ৩ রানের পরাজয় নিয়ে ম্যাচ ও একই সাথে সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ করে বাংলাদেশ।
এর আগে আগে টস হেরে শেষের ঝড়ে ৭ উইকেটে ১৪২ রান করেছে ক্যারিবিয়ানরা। শেষ ৫ ওভারে আসে ৫৮ রান! মাত্র ৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও তারা সমৃদ্ধ স্কোরবোর্ড পায় নিকোলাস পুরানের কারণে। ২২ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪০ রানের ইনিংসের খেলেছেন। ম্যাচসেরাও হন তিনি। শেষ দিকে জেসন হোল্ডারের ৫ বলে ২ ছক্কায় খেলা হার না মানা ১৫ রানেরও ভূমিকা ছিল। সঙ্গে কৃতিত্ব পাবেন রোস্টন চেজ। আক্রমণাত্মক নয় বরং ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেছেন। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ৪৬ বলে মাত্র ২ বাউন্ডারিতে ৩৯ রানের কার্যকারী ইনিংস খেলেছেন তিনি।

কাইরন পোলার্ড স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে ইনিংসের শেষ বলে মেরেছেন ছক্কা। ওই ছক্কায় ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে অপরাজিত ১৪ রান। তাতেই ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ শেষ দিকে বেড়েছে। প্রথম ১৪ ওভারে ৭০ রান করা ক্যারিবীয়রা শেষ ছয় ওভারেই সাতটি বিশাল ছয়ের মারে তুলে নেয় ৭২ রান।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার শরিফুল ইসলাম।
বাঁহাতি পেসার ৪ ওভারে মাত্র ২০ রানে নেন ২ উইকেট। শেখ মেহেদী হাসানও দুর্দান্ত। ৪ ‍ওভারে ২৭ রান খরচায় তার শিকারও ২ উইকট। তাদের মতো ২ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তবে ৪ ওভারে তার খরচ ৪৩ রান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *