শুধু স্বাস্থ্যের উপরেই নয় ত্বকেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাস

শুধু স্বাস্থ্যের উপরেই নয় ত্বকেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাস

*শীর্ষনিউজ২৪ || প্রতিবেদক : শামীম ওসমান || ০৮ নভেম্বর ২০২৩*
তামাক বা নিকোটিন ত্বকের বলিরেখা বা রিঙ্কেলসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। চামড়া কুঁচকে যায়।

‘ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’… এই সাবধান বাণীর সঙ্গে পরিচিত সকলেই। যাঁরা ধূমপানে (Smoking Effects) আসক্ত তাঁরাও এই সতর্কবার্তা বিলক্ষণ জানেন। তবে শুধু স্বাস্থ্যের পক্ষেই নয়, ধূমপান (Smoking Habits) করলে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের উপরেও। অতএব ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করাই সবদিক থেকে মঙ্গলজনক। ধূমপান ত্বকের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে জেনে নিন।

 

সিগারেটের মধ্যে এমন কিছু ক্ষতিকারক উপকরণ রয়েছে, যা ত্বকের নানা ভাবে ক্ষতি করে থাকে। স্কিন থিনিং অর্থাৎ ত্বকের গঠনে ক্ষতি করে তামাক বা নিকোটিন।

তামাক বা নিকোটিন ত্বকের বলিরেখা বা রিঙ্কেলসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। চামড়া কুঁচকে যায়। ত্বকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপকরণ এবং অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয় তামাক ও নিকোটিন।

ঠোঁটের পাশাপাশি আঙুল এবং নখের রঙ পরিবর্তন করে দেয় অতিরিক্ত তামাকের প্রভাব। ত্বকে কালচে ভাবও দেখা দিতে পারে।

*এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে ক্ষতি করে সিগারেট*

 

তামাক বা নিকোটিন নিয়মিত ভাবে সেবন করলে ক্ষতি হয় হৃদযন্ত্র এবং শ্বাসযন্ত্রের। যাঁদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে তাঁরা অবিলম্বে ধূমপান ত্যাগ করুন।

লিভার এবং কিডনিতেও প্রভাব ফেলে তামাক। দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের প্রবণতা বাড়ে।

অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে ক্ষতি হতে পারে দাঁতের। বলা ভাল, ক্রমাগত ধূমপানের ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায়।

ধূমপানের প্রভাব পড়তে পারে আপনার শ্রবণশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তির উপরেও। এই দুই ইন্দ্রিয়ই দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলেও ধূমপানের অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক হয়ে উঠবে।

একদিনে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা বেশ মুশকিল। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তবে সুস্থ থাকতে হলে ধীরে ধীরে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা প্রয়োজন।

*পরোক্ষ ধূমপানের ফলে শিশুদের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?*

 

শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যা যেমন হাঁপানি, ব্রংকাইটিস এবং নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে শিশুদের।

শিশুর ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত তার আশেপাশে বা পরিবারের কেউ যদি তার সামনে ধূমপান করেন তবে শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যা হতে পারে। ঠান্ডা লাগা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অনাক্রম্যতা হ্রাস হতে পারে।

পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হলে ফুসফুসের বৃদ্ধি ঘটে না।

মেনিনোকোকাল রোগের ঝুঁকি রয়েছে।

ঘুমের মধ্যেই শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা থাকে।

*পরোক্ষ ধূমপানে কী ক্ষতি হতে পারে প্রাপ্ত বয়স্কদের?*

 

ধূমপান করেন এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে একই বাড়িতে থাকলে অন্যদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

পরোক্ষ ধূমপান ফলে রক্ত জমাট বাঁধে এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়।

রক্তনালীতে চর্বিযুক্ত পদার্থ জমে ব্লক হতে পারে। ৩০ মিনিটের বেশি পরোক্ষ ধূমপানের ফলে রক্ত প্রবাহে বাধা হতে পারে।

পরোক্ষ ধূমপানের ফলে শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন পরিমাণ কমে।

গলা এবং স্বরযন্ত্রের ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাস এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আজই ধুমপান ত্যাগ করুন বেশিদিন বাচুন।
(তথ্য-সুত্র: এবিপি।)

শীর্ষনিউজ২৪/রংপুর, বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *