রংপুরের সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে খোলা আকাশের় নিচে অবৈধ সাবান কারখানাঃ পরিবেশে ক্ষতির প্রভাব

শীর্ষ নিউজ টুয়েন্টিফোর নিউজ ডেস্ক :

“রংপুরের সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে খোলা আকাশের় নিচে অবৈধ সাবান কারখানাঃ পরিবেশে ক্ষতির প্রভাব”

ভোক্তা অধিকারের হস্তক্ষেপ কামনা!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

রংপুর সদর উপজেলায় গ্রামের বসত বাড়ির আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে কোন প্রকার পরিবেশ ছাড়পত্র, সর্তকতা অবলম্বন ছাড়াই ও বিএসটিআই’র অনুমোদন না নিয়েই চলছে সাবান তৈরির কাজ। ফলে পরিবেশে ক্ষতির প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে হাজার হাজার টাকার রাজস্ব।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর সদর উপজেলার ৪নং সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পালিচড়া উয়ারপার গ্রামে নিজ বাড়িতেই সরকারি ট্যাক্স ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে, সরকারের দেখভাল করারমত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিব্যি এ অবৈধ ব্যবসা করে চলছে মুকুল।

 

শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোন লাইসেন্স যেমন, ইনকাম ট্যাক্স, বিএসটিআই, পরিবেশ লাইসেন্স কোন ককিছুি নাই তার।

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গ্রামে কয়েক হাজার লোক বসবাস করে। কিন্ত মুকুল মিয়া বসত বাড়ির আঙ্গিনায় কোন প্রকার সর্তকতা ছাড়াই গায়ের জোরে সাবান তৈরির কাজ করে আসছে। যা শিশু বাচ্ছাদের জন্য মারাত্নক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে “সাদিব কমলা ডিটারজেন্ট”র মালিক মুকুলের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি ছোট থেকে সাবান বানানোর সঙ্গে জড়িত। আমি নিজেই প্রায় আট মাস থেকে প্রতিদিনে ১,৬০০ (ষোলশো) পিস সাবান তৈরি করে মার্কেটে সেল দেই। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আমার কাছে আর কোনো লাইসেন্স নাই। আমি বিএসটিআই ও পরিবেশ অফিসে গিয়ে কথা বলেছি। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে লাইসেন্স দিবে আমাকে।

 

আমি বিএসটিআই এর অনুমতি পাইনি কিন্তু বিএসটিআই এর নাম্বার ছাড়া কেউ প্রোডাক্ট নিতে চায় না। তাই বিএসটিআই এর লোগো প্যাকেটে ব্যবহার করে ব্যবসা করছি।

 

মুকুলের মহাজন “গুরু ডিটার্জেনের মালিক আতিক হোসেনকে ফোন দিয়ে “সাদিব কমলা” সাবানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান আপনারা ওখানে গেছেন কেন? কত টাকা লাগবে আপনারা আমাকে বলেন! পরবর্তীতে সাক্ষাতে এসে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আমি মনে করেছিলাম আপনারা সাংবাদিক নন।

 

কারণ এর আগে আমার সাবান কারখানায় এসে অনেকে সাংবাদিক নামে ভুয়া পরিচয় দিয়ে টাকা নিয়ে গেছে। তাই আমি না বুঝে ফোনে আপনাদের সাথে রাগ হয়ে কথা বলেছি।

 

গুরুডিটার্জেনের মালিক আতিক হোসেনের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, সেও অবৈধ ভাবে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই সাবান ও পাউডারের প্যাকেটে লোগো ব্যবহার করে আসতেছে। আতিক হোসেন বলেন, আমাকে প্যাকেট গুলো বিএসটিআইয়ের অফিসার পুড়ে ফেলতে বলছে আমি পুড়ি নাই। এখনো প্যাকেট গুলো ব্যাবহার করে আসতেছি।

 

শেষ হলে আমার ব্যবসা আমিও এখানে পালিচড়ায় নিয়ে আসবো এবং একসাথে ব্যবসা করবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আতিক হোসেন জানান, মুকুল নিজেই সাবান তৈরি করে। আমি মুকুলকে আর্থিক সাপোর্টা দেই।

আমার “গুরু ডিটারজেন্ট পাউডার” নামের একটা কোম্পানি আছে। সেজন্য আমি মুকুলকে সাবান বানাইতে বলছি। মুকুল সাবান তৈরি করে আমাকে সাপ্লাই দেয়। সেগুলো আমি আমার কোম্পানির নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি করি।

 

বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইং এর সহকারী পরিচালক জাহিদুর রহমান বলেন, সাদিব সোপ ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের তালিকা ভুক্ত নয়।

অভিযোগ রয়েছে, আতিকুল ও মুকুল শরীরের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর, মানহীন মোড়কজাত এসব পন্য (সাবান) অবৈধ পন্থায় বাজারজাত করার ফলে একদিকে যেমন প্রতারিত হচছে ব্যবসায়িরা অন্যদিকে ক্রেতারাও এসব পন্য ব্যবহার করে ঝুকির মধ্যে পড়ছে।

 

এ সাবান পালিচড়ায় উৎপাদন করা হলেও আশ-পাশের এলাকার হাট বাজার গুলোতে সরবরাহ করা হয়না। চুপিসারে তারা পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জের পদাগঞ্জহাট, খোড়াগাছহাট, শুকুরেরহাট, মোসলেম বাজার, চকেরহাট, নাগেরহাট, ছড়ানেরহাট, শাল্টিরহাট, গোপালপুরবাজার, রানীপুকুরেররহাট, কদমতলারহাটসহ গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাটবাজারে সরবরাহ করে থাকে।

নিয়মিত আপডেট পেতে

শীর্ষ নিউজ ২৪ এর সঙ্গে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *