মুকুলের ঘ্রানে হাড়িভাঙ্গার স্বাদ

মুকুলের ঘ্রানে হাড়িভাঙ্গার স্বাদ

নিউজ ডেক্সঃ চলতি মৌসুমে সুমিষ্ট হাড়িভাঙ্গা আমের এ রাজ্যে গাছে গাছে যেন সবুজ আর হলুদের মহামিলন ঘটেছে। ডাল আর সবুজ পাতায় শোভা পাচ্ছে হলুদ মুকুল। বাতাসে মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রানে এ যেন হাড়িভাঙ্গার স্বাদ জানিয়ে দিচ্ছে মধু মাসের বার্তা।

রংপুরের বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, আমবাগানগুলো সেজে উঠছে পূর্ণতার আশায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। এদুই উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা আম উৎপাদনের প্রায় ৯০শতাংশ চাষ হয়ে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রংপুরে প্রায় ৩ হাজার ২১৫ হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙার হয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয় ২০ থেকে ২২ মেট্রিক টন। গাছে মুকুল আসার ৪ মাসের মধ্যে কৃষকের ঘরে ওঠে আম।

এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বেশ মুকুল হয়েছে ঝড় নাহলে ভালো ফলনের আশা তার। তার মতো এলাকার অনেকেই এখন ঝুকেছে আম চাষে। যেদিকেই চোখ যায় শুধু সারি সারি আমের গাছ।

হাড়িভাঙ্গা আম পাইকারি বিক্রির একমাত্র বাজার পদাগঞ্জ হাট হওয়ায় আমের মৌসুমে ভালো দাম না পাওয়ার অভিযোগ কৃষকদের। তবে বাজার সংস্কার করাসহ রপ্তানির ব্যবস্থা করা হলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা হাড়িভাঙ্গা আম চাষিদের।

পদাগঞ্জের আম চাষি আব্দুর রহিম বলেন, হাঁড়িভাঙা আম আসা শুরু হলে অল্পদিনের মধ্যেই মৌসুম শেষ হয়ে যায়। আম বেশি দিন সংরক্ষণে রাখা যায় না। এই আম কীভাবে বেশি দিন সংরক্ষণে রাখা যাবে এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে।

ওই এলাকার বাদশাহ মিয়া বলেন, আঁশ ছাড়া সুমিষ্ট এই আম বিদেশে রপ্তানি করা হলে আমরা ভালো দামও পেতাম। একই সাথে যদি একটি বিশেষায়িত হিমাগার করা হয় আমরা বেশি উপকৃত হবো।

অনলাইনে আম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইডিয়াটিক আম সার্ভিসের স্বত্ত্বাধিকারী সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, আমচাষিদের স্বার্থে খুব দ্রুত বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ করা দরকার। এটি হলে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবে তেমন ব্যবসার পরিধিও বাড়বে এঅঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, রংপুর হাঁড়িভাঙা আমের জন্য বিখ্যাত। এখন আমের গাছে গাছে মুকুল এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা চাষিদের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত প্রেসক্রিপশন দেওয়া হচ্ছে। এখন আবহাওয়া যদি রৌদ্রজ্জ্বল হয় এবং তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ে তাহলে সমস্যা হবে না। সব মিলিয়ে প্রকৃতি বিরুপ না হলে, এবারও আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, গত বছর প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে হাঁড়িভাঙা দেশের গণ্ডি পেরিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হাঁড়িভাঙা আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে এবারও বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। গত বছর গত বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে।

যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে এবার ৫০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলার আম যখন শেষ পর্যায়ে, তখনই হাঁড়িভাঙা আম বাজারে আসতে শুরু হয়। এই আম প্রায় দেড় মাস বাজারে পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *