ভালো লেখকদের! কবিদের এবং ভালো বইয়ের যথার্থ মূল্যায়ন হচ্ছে কি জাতি জানতে চায়

ভালো লেখকদের/কবিদের এবং ভালো বইয়ের যথার্থ মূল্যায়ন হচ্ছে কি জাতি জানতে চায়!

লেখক: কিংবদন্তী কবি মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম।

সম্মানিত সুধী,আশা করি আপনারা সকলেই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ভালো আছেন। আপনারা জানেন কি বাংলাদেশে এখনো অনেক কবি লেখক সাহিত্যিক অত্যন্ত অবহেলার মধ্যে দিন যাপন করছেন । অত্যন্ত কষ্টে দিন যাপন করছেন বহু কবি লেখক না আছে তাদের রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি ভালো, না আছে তাদের সামাজিক কোন ভালো স্বীকৃতি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা নেই ধুকে ধুকে বেঁচে আছে কোন মত।

এই হচ্ছে বাংলাদেশের অধিকাংশ লেখক কবিদের বর্তমান অবস্থা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে অনেকেই বেঁচে আছেন নাম মাত্র। আজকে আমরা ভালো করে বই পড়ি না আজকে আমরা tiktok নিয়ে ব্যস্ত ইউটিউব দিয়ে ব্যস্ত যত আজেবাজে জিনিস নিয়ে আমাদের অধিকাংশ মানুষ এবং নতুন প্রজন্মের মানুষগুলো ব্যস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা প্রচার মাধ্যমগুলোতে এই আজেবাজে অশালীন জিনিসগুলোই বেশি প্রচার করা হচ্ছে তবে দেশের প্রকৃত মেধাবী যারা যারা সমাজ গড়ার কারিগর যারা মানুষ গড়ার কারিগর যারা জাতি গড়ার কারিগর যারা একটি দেশ একটি রাষ্ট্র একটি জাতিকে বহু কিছু দিতে পারে বহু সম্ভাবনাময় সঠিক পথ নির্দেশিকা দিতে পারে আজ তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাদেরকে তুলে আনার জন্য তাদেরকে উঠিয়ে আনার জন্য তাদেরকে সমৃদ্ধ করার জন্য কোন প্রকল্প কোন সংস্থা কোন সংগঠনই উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়ার মতো কাজ করছে বলে আমার মনে হয় না।

আজকে গানের জন্য দেখবেন ক্লোজআপ ওয়ান হচ্ছে চ্যানেল আই সেরা কন্ঠসহ বিভিন্ন রিয়েলিটি শো অথচ সাহিত্যিকদের তুলে আনার জন্য নাই বড় কোন রিয়েলিটি শো নাই কোন বড় প্রচার প্রসার। আর আপনি যদি নতুন বা মধ্যম মানের লেখক হন তাহলে তো কথাই নেই একটি লেখা নিয়ে পত্রিকার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে তারপরেও আপনার লেখা প্রচার হবে কিনা প্রকাশ হবে কিনা তাতে হয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ শুধু তাই নয় কিছু কিছু পত্রিকা আপনার কাছে টাকাও দাবি করে বসে থাকবে যে জায়গায় আপনি টাকা পাওয়ার কথা এর চাইতে আর দুঃখের কথা কি বলব তাহলে আপনারাই বলেন এই অঙ্গনের মানুষদের অবস্থা কতটা অবহেলার আপনারাই বলেন এই অঙ্গনে মানুষ কিভাবে উঠে আসবে। এই মেধাবী মানুষগুলো এভাবে চলতে থাকলে হারিয়ে যাবে আমরা বঞ্চিত হব অনেক কিছু থেকেই।

যৎসামান্য দু চারটা সংগঠন সংস্থা কাজ করছে। তবে সাহিত্যের কল্যাণে কবিদের কল্যাণে লেখকদের কল্যাণে এখনই সময় দেশ ও দশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের এই মেধাবী মানুষগুলোকে যথাস্থানে আসন দেওয়া উচিত বা আসীন করা উচিত অন্যথায় আমরা অতি দ্রুতই মেধাশূন্য হয়ে পড়তে যাচ্ছি। কারণ আগামী দিনে নতুন লেখক নতুন কবি নতুন সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক সৃষ্টি হবে না কারণ এই প্রফেশনে বা এই পেশাতে না আছে তেমন সম্মান না আসে তেমন খ্যাতি না আসে তেমন অর্থ এবং সামাজিক অবস্থা ।

আজকে ১০০ জন লেখকের কাছে আপনি যান ইন্টারভিউ নেন আমি হলুদ করে বলতে পারি ৮০ জন লেখক বই লিখে লসে আছে আমাদের দেশে তাহলে যে কাজ করলে বারবার ব্যর্থ হতে হয় যে কাজ করলে লসে থাকতে হয় যে কাজ করলে নিজে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় সে কাজ কি কেউ করবে আমরা এখন বই পড়ি না আগের মত আমরা এখন বই কিনি না আগের মত আমরা এখন সম্মান শ্রদ্ধা করি না।

কারো সামনে কবি পরিচয় দিলে বা লেখক পরিচয় দিলে ও কবি ও লেখক এমন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে দেখলে খুবই অবাক লাগে অথচ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর অবস্থা কিন্তু এরকম না। আজকে উন্নত দেশের একজন লেখিকা জেকে রাউলিং যিনি মিলিয়ন ডলারের মালিক একদম জিরো থেকে হয়েছেন তাহলে সে কিভাবে হয়েছে কারণ ওই সব দেশে এগুলোর কদর আছে এখনো আমরা এখান থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। শুধু ইনিই নয় amazon এ বহু লেখক রয়েছেন যারা তাদের বই বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আমরা এখনো এদিক থেকে অনেক পেছনে আন্তর্জাতিক মার্কেটে আমরা অনেক পেছনে।

মার্কেটপ্লেসে আমাদের অবাধ বিচরণ নেই থাকলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমরা ঘাঁটি কিন্তু বই নিয়ে ঘাটাঘাটি আমাদের কম। আমরা দিনশেষে আমাদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছি কিন্তু সেটা আমরা কখনো ভেবে দেখছি না তবে একটি কথা বলে রাখি ক্ষতি হয়ে গেলে তখন ভেবে দেখে কিন্তু লাভ হবে না তাই ক্ষতি হওয়ার আগেই আমাদেরকে সাবধান হতে হবে এবং সে অনুযায়ী যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমি বাংলাদেশের প্রায় ৩৯ টি সাহিত্য সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আছি আমি ।

অনেক কাছ থেকে এই জিনিসগুলো দেখেছি এবং অনুধাবন করেছি । অনেকের ভিতরের খবরই আমি জানি তাই সকলের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাবো আসুন সাহিত্য বাচাই আসুন লেখক বাঁচাই আসুন কবিদের বাঁচাই তাদের মঙ্গলার্থে কাজ করি তাদের তুলে আনার জন্য সকলে একযোগে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাই। অন্যথায় সাহিত্য পড়বে ধ্বংসের মুখে এবং সাহিত্যিক ও কমে যাবে এ দেশ থেকে। শুধু তাই নয়, সেই জায়গাগুলো থেকে মানুষ সরে যাবে এবং অপসংস্কৃতি এসে বাসা বাঁধবে মানুষ অন্যদিকে ধাবিত হবে অন্য কিছু শিখবে অন্ধকারের দিকে যাবে। শুধু আসলেন দেখলেন পড়লেন জানলেন আর দুইটা কমেন্টস করে গেলেন এটা নয় কথা এবং কাজ দুটোই করতে হবে মুখে আওয়াজ তুলতে হবে

এবং যার যার অবস্থান থেকে লেখকদের রক্ষায় কবিদের রক্ষায় সাহিত্য রক্ষায় আপনাদের একযোগে কাজ করতে হবে আসুন সকলে একযোগে কাজ করি। সাহিত্যকে ভালোবাসি সাহিত্যিকদের ভালোবাসি পাঠকদের ভালোবাসি লেখকদের ভালবাসি কবিদের ভালোবাসি সাহিত্য সংগঠন গুলো ভালোবাসি।

উচ্চমার্গের এই মানুষগুলো নিজের জীবনে বহু দুঃখ কষ্ট জ্বালা যন্ত্রণা রোগ শোক অনেক অভিজ্ঞতা নিয়েই তারা লেখেন। লেখকদের জীবনেও রয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা হাজারো সমস্যা তারপরেও তারা সমাজের জন্য মানুষের জন্য জীব ও জগতের কল্যাণে লিখে যাচ্ছেন অবিরত ভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের সাথে। তবে তারা কেন অবহেলিত হয়ে থাকবে তবে তারা কেন অনাহারে থাকবে তবে তারা কেন সঠিক জায়গাটি পাবে না সঠিকভাবে মূল্যায়ন হবে না সঠিক সম্মান

শ্রদ্ধা পাবে না কেন তারা মরে গেলে একটা স্বীকৃতি পাবে কেন বৃদ্ধ বয়সে একটা দুইটা ছোটখাটো স্বীকৃতি পাবে এগুলো কি কেন এসব হচ্ছে কেন এগুলো থেকে আমরা বের হতে পারছি না ভেবে দেখা দরকার এবং এখনই এটার সঠিক সুষ্ঠু গঠনমূলক কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এ জাতিকে।

সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় কতটুকু আমরা বসাতে পেরেছি সঠিক মানুষকে সঠিকভাবে কতটুকু মূল্যায়ন আমরা করতে পেরেছি। সাহিত্যের এই অংশেও দুর্নীতির ছাপ পড়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেলবাজ আর দুর্নীতিবাজদের কবল থেকে রক্ষার্থে আমাদের সকলের কাজ করতে হবে । সত্যি কথা বলতে এখন কয়জন মানুষ বই কেনে আপনি আপনার চেনা ১০০ জন বন্ধুর কথা একবার ভাবুন এবার বইমেলা থেকে কয়টি বই কিনেছে কয়টি বই পড়েছে আমার মনে হয় ১০০ জনের মধ্যে দুইজন পাবেন কিনা সন্দেহ আছে।

এজন্য আমাদের বই পড়তে হবে ভালো বইয়ের চর্চা করতে হবে এবং ভালো লেখক ভালো বইয়ের প্রচার প্রসারে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন বই ভালোবাসি বই পড়ি লেখক কবিদের ভালবাসি শ্রদ্ধা করি এবং তাদের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে সকলে একসাথে কাজ করি।সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। লেখক: কিংবদন্তী কবি মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *