ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন
নদ’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে  হাজারো পরিবার
ফয়জার রহমান রানু, উলিপুরঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে বাস্তুহারা হয়ে পরেছে অনেক পরিবার।  সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লারহাটে ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসনে বাস্তুহারা হয়েছে ওই এলাকার অন্তত ডের হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েক শত পরিবার। এছাড়াও, কড্ডার মোড়সহ ঐ এলাকার শতাধীক বাড়ী-ঘর
নদের তীব্র ভাঙনে সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পরেছে কয়কটি স্থাপনা ও ফসলি জমি। নদ’গর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় মোল্লারহাট বাজার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বর্ষায় বাজার রক্ষায় কিছু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা খরস্রোতে নদের গর্ভে চলে গেছে। তীব্র ভাঙন চললেও সবকিছুকে উপেক্ষা করে বাজারের কাছেই ইতোপূর্বে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন করায় এতে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। গত রবিবার মোল্লারহাট  সংলগ্ন রসুলপুর ও ভূগোলের কুটি গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের তীরে ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। গত ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে  ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙ্গনের  তান্ডবে প্রায় শতাধীক পরিবারের বসতভিটা, গাছপালা, আবাদি জমি, কবরস্থান গিলে ফেলেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। আরো অনেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের বাড়ি-ঘর।
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ছয়বার ভিটে সরিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আরমান আলী। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তিনি ভিটে সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন। আরমান আলী বলেন, ‘ছয়বার বাড়ি সরাই, বুকের ভিতরাটা ভাঙি যায়। এতোবার ভিটা ভাঙে, তাও কাইয়ো শোনে না-দেখে না,বা। আমরা খুব অসহায়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে একই কথা বললেন, ঐ এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী মজিবর রহমান। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে সর্বহারা হয়ে এখন ফকির হতে হয়েছে অনেক কে। বাড়ি-ঘর সরাতে সরাতে হাফসি গেছে এরশাদুল, আব্দুল খালেক, পাষাণ, সোনাউল্লা, রুবেল, মজিবর, সেকেন্দার, সোহাগসহ ভুক্তভোগীরা।  জানাগেছে, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড পুরোটাই এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ অংশ মানোচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। ছয় মাসে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। আবাদি জমি বিলীন হয়েছে অন্তত ডের হাজার একর।
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেন, ‘গত ছয় মাসে ব্রহ্মপুত্র আর ধরলার ভাঙনে অন্তত ১ হাজার ৩০০ পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। একদিকে ব্রহ্মপুত্র নদ অন্যদিকে ধরলা নদীর ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে ইউনিয়নটি মানোচিত্র হারাবে।
এদিকে গত বর্ষা মৌসুমে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে  মোল্লারহাট বাজার রক্ষার্থে ভাঙন রোধে কিছু কাজ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংসার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। মোল্লাহাট বাজার রক্ষায় ভাঙ্গন রোধে কাজ চলমান রয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুন’র সাথে ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান শুধু মোল্লাহাট বাজার রক্ষায় ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনের  তুলনায় বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয় পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
ফয়জার রহমান রানু
উলিপুর,কুড়িগ্রাম।
তাং ২১-১১-২২ ইং
০১৭৪২-৮২৭০৪১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *