বেপরোয়া কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বালু খাদকরা

বেপরোয়া কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বালু খাদকরা

কুড়িগ্রাম থেকে মোবাশ্বের নেছারী:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকদফা জরিমানা দিয়েও থেমে নেই ব্রহ্মপুত্র নদী পাড়ের বালু খাদকরা। এলাকার কয়েকটি পয়েন্টে বছরে পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ বালু উত্তোলন করে তা নির্বিঘ্নে বিক্রয় করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিগগিরই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য পরিবেশবাদীদের।

উপজেলার ফলুয়ারচর ঘাট, চর বাঘমারা, জামাইপাড়া, বলদমারাঘাট, খেদাইমারী, হরিণধরা, তেলিরমোড়, যাদুরচর, চর কাজাইকাটা, শান্তিরচর, তেকানী ঝগড়ারচর, পাখিউড়া, ওহেদনগর, মিয়ারচর মুখতোলা, গাছবাড়ী, বাগেরহাট, গয়টাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ও সোনাভরী, হলহলিয়া, জিনজিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল।

উপজেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর গ্রামে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তারিখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ বালু খাদকদের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এসময় বালু উত্তোলনে অব্যবহিত যন্ত্রপাতি নষ্ট করা হয়; কিন্তু তার পরও কোনোভাবেই উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর চর ও ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন ও বিক্রি থামছে না।

বালু খাদকরা মানছেনা কোনো বাধা। ইতিমধ্যে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ ও মানববন্ধনও হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এসব বালু খাদকদের কিছু অর্থদণ্ড করা হয়। নগণ্য অর্থদণ্ডতার কারণে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব অবৈধ বালু ব্যবসায়ী। জরিমানা নাকি অনুমতি এ প্রশ্ন এলাবাসীর।

ব্রহ্মপুত্র পাড়ের ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতিদিনই চলছে বালুকাটা। নদীর পাড় ও ফসলি জমি থেকে শ্রমিক ও ভেকু মেশিনের সাহায্যে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে শত শত ট্রাক্টর দিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করছে। এভাবে চলতে থাকে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নদীর বালু কাটছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী।

ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তারা এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কেউ বাধা দিলে তাকে মারধর, হুমকি-ধমকি সহ নানান রকম বিপদের শিকার হতে হয়। এমনকি স্হানীয় মিডিয়া সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, রৌমারী উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের যে কয়েকটি স্পট আছে, তাতে এক মৌসুমে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার বালু কেটে ও উত্তোলন করে বিক্রি করা সম্ভব।

এলাকার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ফসলি জমি ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ফসলি জমি, নদী পাড়ের বসতঘর ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীতে ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিন শত শত বার ভারী ইঞ্জিনচালিত যান চলাচলের কারণে রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্দবেড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেন (ফরিদ) বলেন, ফলুয়ারচর বালু উত্তোলনকারী এবং বালু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটটি খুবই শক্তিশালী। উপর মহলে তাদের রিলেশন থাকায় কোনোক্রমেই তাদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না।বালুখাদকরা প্রশাসনের কোনো বাধাই মানছে না।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এ বছর বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *