পালপাড়াতে পুত্রের হাতে গর্ভধারিণী মা লাঞ্ছিত

পালপাড়াতে পুত্রের হাতে গর্ভধারিণী মা লাঞ্ছিত

মাসুদ রানা জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:-

জামালপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পালপাড়াতে পুত্রের হাতে গর্ভধারিনী মা লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। লাঞ্ছিত করেই থেমে থাকেননি অকৃতজ্ঞ ছেলেটি তার মাকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকসহ সকল দরজাতে তালাবদ্ধ করে দেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে এমন ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গর্ভধারিনী আরতি রানী পাল।

জানাগেছে, ৩ ছেলে সন্তানের জননী আরতি রানী পাল। পালপাড়াতে তার শ্বশুড়ের ২শতাংশ জায়গাতেই বসবাস করে আসছিলেন। আরতি রানী পালের ছোট ছেলে পিজুস চন্দ্র পাল বিদেশে থাকেন। বিদেশের উপার্জিত টাকা দিয়ে বাড়ী নির্মাণ করেন। সেই বাড়ীতে বসবাস করেন আরতি রানী পাল এবং পিজুস চন্দ্র পালের স্ত্রী। আরতি রানী পালের মেজো ছেলে মামলার বিবাদী প্রীতিশ চন্দ্র পাল বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার কথা বলে পিজুসের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নেন।

ব্যবসার লস দেখিয়ে পুনরায় টাকা চান এবং ৭ লক্ষ টাকা নেন। সেই টাকাও ব্যবসার লস বলে আত্মাসাৎ করেন। পরে পুনরায় টাকা চাইলে পিজুসের কাছে টাকা চাইলে না দেয়ায় বারবার নিজের গর্ভধারিনী মাসহ ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর উপর নির্যাতন করে এবং লাঞ্ছিত করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সকালে প্রীতিশ তার গর্ভধারিনী মা আরতি রাণী পালকে লাঞ্ছিত করেন এবং ঘরসহ বাড়ীর গেইটে তালা জুলিয়ে সকলকে বের করে দেন। তাৎক্ষণিক এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জামালপুর কোর্টে আরতি রাণী পাল।

কোর্টের বিচারক সরাসরি প্রীতিশ চন্দ্র পালকে আটকের নির্দেশ দেন। সারাদিন অতিবাহিত হওয়ার পর স্থানীয়দের পরামর্শে সন্ধ্যার দিকে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন আরতি রাণী পাল। ৯৯৯ নাম্বারে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জামালপুর সদর থানার পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে আরতি রানী পাল ঘরের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সে সঠিক বিচারের দাবী জানান সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেসহ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার নিকট।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর সদর থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম জানান, আরতি রাণী পাল নিজঘরে প্রবেশ করতে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। ফোন পেয়ে আমাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আমার উপস্থিতিতে আরতি রানী পাল তার বসতঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করেন। আমি আরতি রানী পালকে ঘরে প্রবেশ করিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

এদিকে গর্ভধারিনী মাকে লাঞ্ছিতের ঘটনার মামলার জামিন নিতে গেলে প্রীতিশ চন্দ্র পালকে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এব্যাপারে প্রীতিশ চন্দ্র পালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য প্রীতিশ চন্দ্র পাল এর আগেও পিতা ও বড় ভাই কে নির্যাতনের অভিযোগে জেল খেটেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *