পবিত্র মাহে রমজানে কক্সবাজার পর্যটক শূন্য,ব্যবসায়ীরা বিপাকে

পবিত্র মাহে রমজানে কক্সবাজার পর্যটক শূন্য, ব্যবসায়ীরা বিপাকে

মোহাম্মদ শাহ এমরান,টেকনাফ (কক্সবাজার):

গেল সাপ্তহ লাখো মানুষের ঢল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের সমাগম। পবিত্র রোজার মাসে অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটন স্থানটি। এখানে রয়েছে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজ । প্রায় হাজার উপরে রেস্তোরাঁও বন্ধ রয়েছ। এতে ভ্রমণে আসা হাজার পর্যটককে খাবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে কক্সবাজার শহরে।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সৈকতের কলাতলী ও সুগন্ধা, সিগ্যাল ও লাবণী পয়েন্টেও সহ বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, দুই কিলোমিটার লম্বা এই সৈকতে মাত্র কয়েকজন বালুচরে হাঁটছেন দেখা গেছ। যেখানে লাখো পর্যটক থাকার কথা সেখানে শতাধিক মানুষকে কিটকটে বসে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে। তবে গরমের কারণে তাঁদের খুব বেশি ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়নি। সৈকত জুড়ে অন্তত ৫০০টি অধিক কিটকট (চেয়ার-ছাতা) বসানো হলেও একজন মানুষ ও দেখা মিলেনি সব কটি খালি পড়ে আছে। সৈকতে নামার মুখের দোকান পাটও বন্ধ। পর্যটকদের ছবি তুলে দেওয়ার ভ্রাম্যমাণ আলোক চিত্রীরা গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে লোকজনের অপেক্ষায় আছেন।

সমুদ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, সাত-আট দিন আগে সুগন্ধা পয়েন্টে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছিল। এখন সারা দিনে সমুদ্রে গোসলে নামছেন মাত্র দু-তিন হাজার। পর্যটক না থাকায় সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে।

রোজার প্রথম দিন থেকে সৈকত ও শহর এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল খালি পড়ে আছে জানিয়ে কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, গতকাল হোটেলগুলোয় অতিথি ছিলেন পাঁচ হাজারের মতো। আজ সকালে চলে গেছেন এক হাজার। কয়েক দিন পর আরও কমে যাবে। রোজা শেষে ঈদুল ফিতরের টানা ৭ থেকে ৮ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামবে, তখন ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙ্গা হবে।

পর্যটক টানতে বিশেষ ছাড়-
আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত সৈকতের পাঁচ তারকা হোটেল সিগ্যাল, ওশান প্যারাডাইস, সায়মান বিচ রিসোর্ট, হোটেল কক্স টুডে, হোটেল কল্লোল, মারমেইড বিচ রিসোর্টসহ কলাতলী এলাকার অন্তত ৪০টি হোটেল, গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেগুলোর ৯৫ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে আছে। কোনো কোনোটি পুরোপুরি খালি। এর মধ্যে কয়েকটি হোটেলের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

হোটেল সিগ্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ ইমরুল ইসলাম ছিদ্দিকী বলেন, রোজার মাসে অধিকাংশ কক্ষ খালি থাকে। হোটেলে মোট ১৭৯টি কক্ষের মধ্যে ৮৭ শতাংশ খালি আছে। কক্ষভাড়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটক না থাকলেও পাঁচ শতাধিক হোটেল-গেস্টহাউস বন্ধ করা হয়নি জানিয়ে কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সব কটি হোটেল, রেস্তোরাঁয় সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছে। এগুলোর ৬০ শতাংশ কর্মচারীকে ঈদের অগ্রিম বেতন-বোনাস দিয়ে বাধ্যতামূলক এক মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এখন হোটেল গেস্ট হাউস গুলোয় চার থেকে পাঁচ হাজার পর্যটক আছেন।

পুরো রোজার মাসে পর্যটক টানতে হোটেল-গেস্টহাউস–রিসোর্টগুলোয় কক্ষভাড়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান আবুল কাশেম সিকদার। তিনি আরও বলেন, সে ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকার একটি কক্ষের ভাড়া পড়ছে ৪০০ টাকা। হোটেলগুলোয় দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার জন।

দেখা গেছে, কয়েকটি হোটেল-গেস্টহাউস-কটেজে রং করা ও সংস্কার কাজের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপনের কাজ চালানো হচ্ছে। কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দোলন আচার্য বলেন, শহরের অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তার পরিকল্পনা নেই। অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারও থাকে অপর্যাপ্ত। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয় যত্রতত্র। পানির রিজার্ভারে পর্যাপ্ত পানি রাখা হয় না। এখন এসব স্থাপন ও সংস্কারের কাজ চলছে। সাত শত রেস্তোরাঁ বন্ধ, বিপাকে পর্যটকেরা কক্সবাজার শহরে রেস্তোরাঁ আছে সাত শতাধিক। এর বাইরে সৈকত এলাকায় ভাজা মাছসহ খাবার বিক্রির ভ্যানগাড়ির দোকান আছে প্রায় ৩০০টি। রোজা উপলক্ষে সব কটি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আশাবাদী আগামী ঈদুল ফিতরের টানা ৭ থেকে ৮ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামবে, তখন ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙ্গা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *