নৌকার সমর্থকদের হামলার স্বীকার ধামইরহাট মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক

নৌকার সমর্থকদের হামলার স্বীকার ধামইরহাট মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক

মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি,
নওগাঁর ধামইরহাটে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নৌকার সমর্থক সন্ত্রাসীদের হামলায় ধামইরহাট মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিফাতুল হাসান চৌধুরী সৈকত (২৬) ও মুনির চৌধুরী নয়ন (৪০) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার রাতে পত্নীতলা উপজেলার শিহারা বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক মার্কা) ইঞ্জিনিয়ার আখতারুল আলমের নির্বাচনী অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ কারণে আহত মুনির চৌধুরী নয়ন বাদী হয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর ১১ জন নৌকার সমর্থকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ জন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

আহত সাংবাদিক রিফাতুল হাসান চৌধুরী উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকার শাহান চৌধুরীর ছেলে। তিনি ‘দৈনিক তৃতীয় মাত্রা’ পত্রিকার ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত এবং মুনীর চৌধুরী নয়ন একই এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীকের) ইঞ্জিনিয়ার আখতারুল আলমের সমর্থক।

তারা গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে রাত দশটায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শেষে পত্নীতলা উপজেলার শিহারা বাজারে নওগাঁর ধামইরহাট পত্নীতলা-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকারের নৌকার সমর্থক, পত্নীতলা উপজেলার ওয়ারিখন্ডা গ্রামের ইমাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান, মৃত মঙ্গলুর ছেলে মামুনুর রশিদ, রহিম উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ, আবাদপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির হোসেন, আব্দুল কাদেরের ছেলে মাসুম বিল্লাহ,

ফৈমদ্দিনের ছেলে শাকিল আহম্মেদ, ওয়ারিখন্ডা গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে আশিকুর রহমান, শিহারা গ্রামের আলহাজ্ব নাজিমদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, উত্তর রামপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, আবাদপুর গ্রামের ফইমদ্দীনের ছেলে ফারুক হোসেন।

এছাড়াও পত্নীতলা উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে রাফিউলসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিরিশ জন নৌকার সমর্থক সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাদি নয়নকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারার জন্য এলে সাংবাদিক রিফাতুল হাসান চৌধুরী সৈকত ভিডিও ধারণ করা মাত্রই তাঁকে টেনে হেচড়ে নৌকার প্রচার অফিসে নিয়া যায়।

এবং মারপিট শেষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অপর গুরুতর আহত নয়নকে মেরে ফেলার জন্য চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

অভিযোগসূত্রে আরও জানা গেছে, ওই সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক সৈকত ও বাদি নয়নসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচএম আখতারুল আলমকে যেকোনো সময় হত্যা করতে পারে বলে জানান।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পত্র হাতে পেয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *