নীলফামারীর ডিমলায় বড় বোনকে জমি লিখে দেয়ায় ছেলের হাতে বাবা খুন। অতপরঃ ছেলে গ্রেফতার

নীলফামারীর ডিমলায় বড় বোনকে জমি লিখে দেয়ায় ছেলের হাতে বাবা খুন। অতপরঃ ছেলে গ্রেফতার।

আব্দস সালাম ষ্টাফ রিপোর্টার :-নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি মিলন পাড়া গ্রামে ছেলে মোঃ নুর ইসলাম (৩৭) বাবা আব্দুল আজিজকে(৭০) কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। বড় বোনকে জমির অংশ বেশি লিখে দেওয়ায় রাগে বাবাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার (২৮শে নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত এলাকার বুড়িতিস্তার চরের এক আত্মীয় বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯শে নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ওসি দেবাশীষ রায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল আজিজের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। আব্দুল আজিজ এক বছর আগে অন্যান্য সন্তানকে না জানিয়ে তার বড় মেয়ে আরজিনা বেগমকে ১৬ শতাংশ জমি লিখে দেন। পরবর্তীতে জানাজানি হলে সকল ভাই বোনদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এঅবস্থায় মঙ্গলবার সকালে আজিজ বাড়ির সামনের জমিতে ভুট্টা রোপণের সময় জমির ছেলে নুর ইসলামের সঙ্গে সীমানা নিয়ে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলে নুর ইসলাম রাগ সামলে রাখতে না পেরে পাশে থাকা কোদাল দিয়ে বাবা আজিজকে কুপিয়ে আহত করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আজিজ মারা যান। স্থানীয়রা আরও বলেন, মোঃ নুর ইসলাম (৩৭) অক্লান্ত পরিশ্রম করে দুর্দিনে ওদের পরিবারটিকে রক্ষা করেছিলেন। নিহত আব্দুল আজিজ তার বড় মেয়ে আরজিনা বেগমের উসকানীতে সুন্দর পরিবারটি এখন ধ্বংস প্রায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগীতায় মোবাইল ট্যাকিং এর মাধ্যমে জলঢাকা থানার ওসি মুক্তারুল আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে জলঢাকা উপজেলার নেকবক্ত এলাকার বুড়িতিস্তা চরের এক আত্মীয় বাড়ি থেকে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *