নির্বাচন যাদের মাধ্যমে হবে তারাও সরকারের পক্ষে রংপুরে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নির্বাচন যাদের মাধ্যমে হবে তারাও সরকারের পক্ষে রংপুরে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, এখন জনগণের প্রতিপক্ষ সরকার। নির্বাচন যাদের মাধ্যমে হবে তারাও সরকারের পক্ষে। সবকিছুই এখন সরকার দলীয় হয়ে গেছে।

সরকার যখন পক্ষ হয় তখন অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আর হয় না, বরং পক্ষপাতিত্ব হয়। সরকারি কর্মকর্তারা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি সরকার দলীয় হিসেবে কাজ করে। এজন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর নগরীর পল্লী নিবাসে শায়িত জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু এখন যে দেশের সার্বিক অবস্থা তা থেকে উত্তরণে সরকারকে আগে উদ্যোগ নিতে হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকারের ইচ্ছা থাকতে হবে এবং সবাইকে নিয়ে বসে এর সমাধানও বের করতে হবে। কারণ এখন সরকারই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।

একারণে সামনের দিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত। নির্বাচনের আগের পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে জাতীয় পার্টি সিদ্ধান্ত নিবে। স্বাধীন নাগরিকদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একটা অনীহা দেখা দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। রাষ্ট্রীয় সকল কাজকর্ম জনগণের ইচ্ছে মতো হবে, এটাই আমাদের প্রজাতন্ত্র বা গণতন্ত্র। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি যেভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে, তা এখন আর হচ্ছে না।

জনপ্রতিনিধি কথা মতো না চললে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাকে পরিবর্তন করবে। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। একারণে জনগণ এখন রাজনীতি ও নির্বাচন বিমুখ হয়েছে।

এসময় সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো সুযোগ নেওয়ার রাজনীতি করে না। আমরা দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করছি। মানুষ এখনো জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমাদের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে।

আর বিএনপি-আওয়ামী লীগ যেভাবে একে অপরকে কামড়াকামড়ি করছে, একারণে দেশের ৮০ ভাগ মানুষ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কাকে ভোট দিবে।

কাজেই এটি জাতীয় পার্টির জন্য একটা বড় সুযোগ। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রত্যাশার রাজনীতি করতে পারি, তাহলে ৮০ ভাগ মানুষের অনেকেই ভোট দিবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর জেলা ও মহানগর জাপার সভাপতি রসিক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসীর, জেলার সদস্য সচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক,

মহানগরের সহ সভাপতি লোকমান হোসেন, জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি রংপুর জেলা আহবায়ক কমিটির যূগ্ম আহবাযক আজমল হোসেন লেবু, শাফিউল ইসলাম শাফি, সদস্য মেজবাহুল ইসলাম মিলন,

হাসানুজামান নাজিম, রুহুল আমিন লিটন, মহানগর জাতীয় পার্টির যূগ্ম সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, জেলা জাপার সদস্য শাহীনুর রহমান কমেট, জাতীয় ছাত্র সমাজ রংপুর মহানগর সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফ, জাতীয় যুব সংহতি রংপুর মহানগর সভাপতি শাহীন হোসেন জাকিরসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দসহ জাতীয়

মহিলা পার্টি, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক পার্টির নেতৃবৃন্দ।

এর আগে তিনি রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়াস্থ কবর স্থানে পিতা,মাতা ও বড় ভাই এর কবর জিয়ারত করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে সদ্য প্রয়াত পার্টির রংপুর জেলার আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টুর কবর জিয়ারত করেন এবং পাকপাড়াস্থ আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টুর বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন।

এ সময় তিনি প্রয়াত নান্টুর স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সমবেদনা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *