নারীর স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়

নারীর স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়

শীর্ষ নিউজ ২৪ ডট কম ডেক্স :

নারী স্বাস্থ্য যে শুধু শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার তা নয়, এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে অর্থনৈতিক অবস্থা, দৈনন্দিন কর্মসূচি ও পারিবারিক দায়-দায়িত্ব।স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য বলতে বোঝায় শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক দিকে সম্পূর্ণভাবে ভালো থাকা।

নারী মানে ব্যস্ততা থাকবেই। নারী সংসারে যেমন ব্যস্ত, তেমনই কর্মক্ষেত্রেও ব্যস্ত থাকেন। সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রামের। এ ক্ষেত্রে বেশি রাত না জেগে তাড়াতাড়ি বিছানায় চলে যাওয়া এবং খুব ভোরে দিন শুরু করলে শরীর ও মন দুটোই চাঙা রাখা সম্ভব। সকাল সকাল দিন শুরু করলে সারা দিনে কাজ শেষ করতে বেশি সময় পাওয়া যায়।

নারীর শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

কৈশোর: একটি মেয়ে যখন কৈশোরে তখন তার শরীর-মনে দেখা দিতে থাকে নানা পরিবর্তন। হরমোনের প্রভাবে আবেগীয় সমস্যাসহ নানা কিছু হতে পারে। এ সময় তারা নিজের শরীর নিয়ে সংকোচে ভোগে।

শুরুর দিকে অনিয়মিত মাসিক, এসব নিয়ে এমনকি মায়ের সঙ্গেও কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে। মাসিকের সময় পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন না করলে হতে পারে সংক্রমণ। তাই কিশোরীর যেকোনো শারীরিক সমস্যায় নিঃসংকোচে চিকিৎসা নেয়ার পরিবেশ তৈরিতে পরিবারের সহায়তা করা উচিত।

প্রজননকাল: বিয়ের পর এবং সন্তান নেয়ার আগে নিজের শারীরিক চেকআপ করা প্রয়োজন। এ সময় কারও উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে কি না, থাইরয়েড হরমোনের অবস্থা কেমন ইত্যাদি দেখে নিতে হবে। কারণ, এই বিষয়গুলো সুস্থ প্রজননে প্রভাব ফেলে।

অনেকেরই অতিরিক্ত ওজন বা অতি কম ওজনের সমস্যা আছে, সন্তান নেয়ার আগেই যা ঠিক করা জরুরি।

মধ্যবয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন নারীর কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, রক্তে চর্বির আধিক্য, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। তাই ৪০-এর পর রুটিন চেকআপগুলো প্রয়োজন।

নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার, জরায়ুমুখের ক্যানসারগুলো শনাক্ত করার জন্য চেকআপ করানো উচিত।

মেনোপজ: মেনোপজের পর মেয়েদের নানা রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কম থাকে তখন বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, রক্তচাপ, চর্বি ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এ সময় নিজের দিকে আরও বেশি করে মনোযোগ দিতে হবে।

বার্ধক্য: বয়স্ক নারীদের জন্য অনেক ঝুঁকি হচ্ছে অস্টিওপরোসিস ও হাড় ভাঙা। অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ, নিয়মিত সঠিক ব্যায়াম এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ করা যায়।

(সংগৃহীত)

লেখক: সহকারী পরিচালক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কিডনি হাসপাতাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *