ডব্লিউপি ব্যবহারে পুড়ে গেল প্রায় ১শ একর আলুর ক্ষেত ” ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের ক্ষতিপূরণ দাবী

ডব্লিউপি ব্যবহারে পুড়ে গেল প্রায় ১শ একর আলুর ক্ষেত ” ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের ক্ষতিপূরণ দাবী

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রংপুরে গেটকো ক্রপ হেলথ কোম্পানীর জি-সাইন ৫০

ডব্লিউপি ব্যবহারে পুড়ে গেল প্রায় ১শ এক আলুর ক্ষেত।

 

 

রংপুরে গেটকো ক্রপ হেলথ কোম্পানীর জি-সাইন ৫০ ডব্লিউপি ব্যবহারে নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর, রংপুর সদরের ফতেপুর ভুরারঘাট ও ৩১ নং ওয়ার্ডের সিলিমপুর মৌজার প্রায় ৫০/৬০ জন চাষীর পুড়ে গেছে প্রায় ১শ একর আলুর ক্ষেতঃ যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ২ কোটি টাকা।

 

ইতিমধ্যে পুড়ে যাওয়া আলুক্ষেত পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালকসহ জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাগণ।

 

এদিকে আলুক্ষেত পুড়ে যাওয়ার পর চাষীদের পাশে না থেকে গাঢাকা দিয়েছেন “গেটকো ক্রপ হেলথ কোম্পানী’র রংপুরের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ফলে কোন কুল-কিনারা খুজে না পেয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী আলু চাষীরা।

তারা কোম্পানীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কৃষি মন্ত্রনালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, রংপুর মহানগরের ১৫ ও ৩১ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর, সিলিমপুর, মানজাই ও রংপুর সদরের ফতেপুর ভুরারঘাট এলাকার ৫০ থেকে ৬০ জন আলুচাষী চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে আলু পচোনরোধে ভুরারঘাট বাজারস্থ ‘মায়ের দোয়া সার ঘর’র স্বত্তাধিকারী ওসমান গনির কাছ থেকে “গেটকো ক্রপ হেলথ”

 

কোম্পানীর ছত্রাক নাশক -জি-সাইন ৫০ ডব্লিউপি ক্রয় করে আলু ক্ষেতে স্প্রে করেন। স্প্রে করার ২/৩ দিনের মধ্যেই চাষীরা লক্ষ করেন আলুর গাছ সব পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরে বিষয়টি ‘মায়ের দোয়া সার ঘর’র স্বত্তাধিকারী ওসমান গনিসহ কোম্পানীর রংপুরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তুহিন সাহেবকে অবগত করা হয়।

 

পরে তুহিন সাহেব ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের সাথে নিয়ে আলুক্ষেত পরিদর্শন করেন এবং কোম্পানীর দায়ীত্বশীলদের অবগত করেন।

 

সেদিন চাষীদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দেয়ার কথা বলে সটকে পড়েন তুহিন মিয়া। তার পর থেকে কোম্পানীর কোন লোকজনকে আর দেখা যায়নি। ফলে আলুচাষীগন ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে কোন কুল কিনারা খুজে না পেয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানাযায়, “গেটকো ক্রপ হেলথ” কোম্পানীর ছত্রাক নাশক -জি-সাইন ৫০ ডব্লিউপি ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষীর মধ্যে দুর্গাপুরের শাখয়াত হোসেন মুক্তা মাস্টারের ২০ একর, আলামিনের ১.৫০ একর, ফতেপুরের মোজাহার আলীর ১.৫০ একর, আতিয়ার রহমানের ১.৫০ একর, সোহেল মিয়ার ১.৫০ একর,

 

আকমাল মিয়ার ০১ একর, রুবেল হোসেনের .৭৫ একর, দুলাল মেম্বারের ০২ একর, ছিলিমপুরের আতাউর রহমানের ১.৭৫ একর, হেলাল মিয়ার ১.৫০ একর, তহিদুল ইসলামের .২৫ একর, মকছার মিয়ার ১.২৫ একর, রিপন মিয়ার .৬২ একর, আক্তারুজ্জামানের .২৫ একর, রাহেদুল ইসলামের .৮৭ একর, কামাল মিয়ার ১.৬২ একর, মন্জুরুল ইসলামের ১.২৫ একর, আমজাদ মিয়ার ১.১৩ একর, জাহিদুল মিয়ার ১.১২ একর, মিজানুর রহমানের ১.৫০ একর, আঃ লতিব মিয়ার .৩৮ একর, মোকছেদুল মিয়ার .৭৫ একর, আতোয়ার মিয়ার ১.২০ একর, মারুফ মিয়ার ১.২৫ একর,

 

কিনা মিয়ার ০১ একর, হাফিজুর রহমানের .৫০ একর, রহুল আমিনের .৩৬ একর, মমিন মিয়ার ০১ একর, ঝনকু মিয়ার ০১ একর, নুর আলমের .৮৮ একর, আকমাল হোসেনের .৫০ একর, শাহালম মিয়ার ১.৫০ একর, রুহুল মিয়ার .৭৫ একর, ভরট পাড়ার শাইদুল মিয়ার .৬২ একর, কোলারপাড়ের নাজমুল হোসেনের. ৫০ একর, সহিদুলের .৫০ একর, সাহেব আলীর ০১ একর, মিলন মিয়ার ১.৫০ একরসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন চাষীর প্রায় শতাধিক একর আলুক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় দুই কোটি টাকা।

 

গেটকো ক্রপ হেলথ কোম্পানির রংপুর অঞ্চলের ম্যানেজার হাশেম আলী বলেন, ‘আমাদের ওষুধের কারণে এমনটা হয়েছে তা এখনই বলবো না। আমরা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পাঠিয়েছি।

 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল এক সপ্তাহের মধ্যে হাতে পাবো। রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে বলতে পারবো।

 

সিলিমপুরের আলু চাষি আকমল হোসেন বলেন, ‘আমরা ৭০-৮০ জন চাষি আলু গাছের পচনরোধে ভুরারঘাট বাজারের ওসমান আলীর মায়ের দোয়া সার ঘর থেকে গেটকো ক্রপ হেলথ কোম্পানির ‘জি-সাইন ৫০ ডব্লিউপি’ কিনে জমিতে দিই। কিছুদিন পর গাছ পুড়ে যাওয়া শুরু করে। আস্তে আস্তে সব গাছ পুড়ি যায়।

 

নগরীর দুর্গাপুর এলাকার আলু চাষি শাখাওয়াত হোসেন মুক্তা বলেন, ‘আমার ২০ একর জমিতে আলু গাছগুলো কেবল লক লক করে উঠতেছিল। বয়স ৪৫-৫০ দিন হয়েছে।

 

দুইবার ওই ওষুধ দেয়ার পর চোখের সামনে মরি গেলো। গাছের বয়স ৯০ দিন না হলে আলু তোলা যায় না। সেই হিসেবে সবই শ্যাষ, সোগটাই লস। আমি শিক্ষক মানুষ, না হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগত।’

রংপুর মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন বলেন, ‘কৃষকরা আমাদের সঙ্গে কথা বলে ওই ওষুধ ব্যবহার করেছেন। অভিযোগ থানায়সহ বিভিন্ন জায়গায় দেয়া হয়েছে। আমরা মাটি সংগ্রহ করেছি, সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠাবো। ফল পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।

 

 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্ষেতে আলুর গাছ, এমনকি ঘাস পর্যন্ত নেই। সব পুড়ে গেছে। কৃষকরা আমাদের অনেক পরে জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে ক্ষতিকর কিছু একটা ব্যবহার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *