ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল

 

গাছতলায় শিশু রোগীদের জন্য শামিয়ানা

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগ। ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৪৫টি। গত কয়েক দিন সেখানে শয্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। স্থানসংকুলান না হওয়ায় একই শয্যায় একাধিক রোগী তো বটেই, এমনকি উপচে পড়েছে ওয়ার্ডের শয্যা, মেঝে, বারান্দাও। তাতেও সংকটের সমাধান না হওয়ায়, আবার অনেক অভিভাবক শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের গাছতলায় ঠাঁই নেন। গাছতলায় ঠাঁই নেওয়া সেসব অভিভাবক ও শিশুদের জন্য হাসপাতাল চত্বরে শামিয়ানা টানিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দিনের বেলায় অতিরিক্ত গরম পড়ছে, আবার রাতে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ওঠা-নামার কারণে শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিশুরা শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি–কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগ চিকিৎসা করাতে আসছেন। এতেই শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত বুধবার শিশু ওয়ার্ডটিতে ভর্তি ছিল ১৯৪টি, গতকাল বৃহস্পতিবার ভর্তি ছিল ২০৩টি আর শুক্রবার শিশু ওয়ার্ডটিতে ভর্তি ছিল ১৫৬টি শিশু। এই শিশুদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি–কাশি ও ডায়রিয়ায় ভুগছে।

 

 

 

আজ বেলা দুইটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, সংকুলান না হওয়ায় এক শয্যায় দুই থেকে তিনটি শিশুকে রাখা হচ্ছে। ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও অভিভাবকদের বসার জায়গায় রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। যারা ওই সব জায়গায়ও স্থান পাচ্ছে না, তাদের জন্য কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চত্বরের শিশু বিভাগের সামনে ও ভেষজ বাগানের গাছেরতলায় শামিয়ানা টানিয়ে দিয়েছে। অভিভাবকেরা সেখানে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

 

স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০টি শিশু ভর্তি থাকলেও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় রোগী বেড়ে গেছে। এখন দুই শতাধিক শিশু ভর্তি থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *