খাওয়ার সুন্নতি নিয়ম ও আদব

মুসলমানের প্রতি টা ভালো কাজই ইবাদত এর সামিল। খাবার আল্লাহ তাআলার একটি অশেষ নিয়ামত। মুসলমানদের খাবার খাওয়াও এক ধরনের ইবাদত। অবশ্যই শরীয়ত সম্মত পন্থা অবলম্বন করে সুন্নতি নিয়মে খাবার খাওয়া উচিত একজন মুসলমানের। খাবার খাওয়ার বিশেষ কয়েকটি ও সুন্নত ও আদব রয়েছে যেগুলো মানতে পারলে খাবার খাওয়াও ইবাদত বলে গণ্য হবে।

খানা খাওয়ার সুন্নতি তরিকা ও আদব গুলো –

1. খানার পবিত্রতা অর্জন করা : খাওয়ার আগে খাওয়ার ওযু করা। খাওয়ার ওযু বলতে দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া এবং কুলি করা। দুই হতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া সুন্নত ।

হাদীসে বর্ণিত আছে – “মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহারের আগে দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন” ( মুসনাদে আহমাদ )

এছাড়াও , মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,”পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ”

2. দস্তর খানা বিছানো : দস্তুর খানা বিছিয়ে নেওয়া সুন্নত। খাওয়ার আগে দস্তুর খানা বিছিয়ে নেওয়া। যেন খাওয়ার সময় খাদ্যবস্তু পড়লে তা তুলে খাওয়ায় যায়।

হাদীসে বর্ণিত আছে – ” মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার দস্তুর খানা বিছিয়ে খানা খেতেন।” ( বুখারী শরীফ – 5386 )

3. জমিনে বসে খাওয়া : জমিনে বসেই খাবার খাওয়া উত্তম।

4. সুন্নতি নিয়মে বসা : হাদীসে আছে – মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাটু উঠিয়ে ডান পায়ের ওপর কর করে বসে খেতেন। আবার দুই হাঁটু উঠিয়ে বসার কোথাও উল্লেখ আছে । বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামের মতে বসার আরো কিছু তরিকা আছে। যেমন – ডান হাটু উঠিয়ে বাম পায়ের ওপর বসা। মূলকথা হলো, খাওয়ার সময় নম্রতা ও ভদ্রতা বজায় রেখে খেতে বসা।

5. খাওয়ায় সামনে নিয়ে দোয়া পড়া : খানা সমানে উপস্থিত হলে এই দোয়া পড়া –

আরবী » اللهوما بريكالانا فيما رياكبتانا وقبينا أجبنار

উচ্চারন » আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফী~মা রযাক্বতানা ওয়াক্বীনা আযাবন্না~র।

6. খাওয়ায় আগে দোয়া পড়া : আল্লাহর নিয়ামত গ্রহনের শুরু অবশ্যই আল্লাহর নাম নিয়ে করা উচিত। খাওয়া শুরু করার আগে এই দোয়া পড়া –

আরবী »

بسم الله ولا بركةلله

উচ্চারণ » বিসমিল্লাহি ওয়ালা বারাকাতিল্লাহ।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন – তোমরা আল্লাহর নাম নাও ও খানা খাও তোমাদের ডান হাত দিয়ে, এবং তোমরা তোমাদের দিক হতে খানা খাও।” ( তিরমিযী : হাদিস নং – 1913, বুখারি শরীফ : হাদিস নং – 5167 )

শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে এই দোয়া পড়া –

উচ্চারন » বিসমিল্লাহ আওয়ালাহু ওয়াআখিরাহ।

( তিরমিযী : হাদিস নং – 1858, আবু দাউদ : হাদিস নং – 3767 )

7. ধৈর্য্য সহকারে খাওয়ার : অর্থাৎ সবুরে-শুকুরে খাওয়া। খাওয়ায় সময় ওযথা তাড়াহুড়া না করা। প্রয়োজনে কিছু অল্প আহার করা।

8. ছোট লোকমা তোলা : খাওয়ার সময় খানার ছোট ছোট লোকমা তোলা। এক লোক শেষ হলে অন্য লোকমা মুখে দেওয়া। বড় বড় এবং একের পর এক লোকমা না তোলা।

9. লবণ দিয়ে শুরু করা : খাওয়ার আগে একটু লবণ মুখে দেওয়া। তারপর খানা খাওয়া।

10. তিন নিঃশ্বাসে পানি পান : খানা খাওয়ার আগে কিছু পানি পান করা। পানি পান করলে তা পান করার সময় তিনবার নিঃশ্বাস ফেলা। কিন্তু পান পাত্রে অর্থাৎ যেই ঘটি,বাটি, মগ, জগ বা গ্লাসে পানি পান করা হবে তার ভিতরে নিঃশ্বাস না ফেলা। পান পত্রের বাইরে তিনবার নিঃশ্বাস ফেলা। পানি দেখে নিয়ে পান করা।

11. মিলে মিশে খাওয়া : এক্ষেত্রে যদি একপাত্রে খাওয়ার ব্যবস্থা হয় তাহলে নিজে বেশি খাওয়ার চেষ্টা না করা। সাথী ভাই বা বোন কে বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা করা। একত্রে খানা খেতে খানা যদি একই প্রকারের হয় তাহলে নিজের পাশ থেকে খাওয়া। আর যদি কয়েক প্রকারের ( যেমন – বিভিন্ন ফলমূল ও বিস্কিট ) হয় তাহলে সব দিক থেকে খাওয়ার নিয়ম আছে। খাওয়ায় সময় একত্রে দুইটি করে না খেয়ে একটি একটি করে খাওয়া। যেমন – খেজুর অথবা বিস্কিট ।

12. ডান পাশ থেকে খাওয়া : খানা খাওয়া শুরু করার সময় দান দিক থেকে শুরু করা। মাঝখান থেকে না খাওয়া।

13. পড়ে যাওয়া খানা তুলে খাওয়া : খানা খাওয়ার সময় খাদ্য দানা দস্তুর খানায় পড়লে সেগুলো তুলে তুলে খাওয়া সুন্নত। প্রয়োজনে তা পুনরায় ধুয়ে খাওয়া।

হযরত জাবের (রা) হতে বর্ণিত – মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , তোমাদের আহারকালে যদি খাদ্যবস্তু পড়ে যায়, তাহলে তুলে পরিষ্কার করে তা খেও। শয়তানের জন্য তা রেখে দিও না” ( ইবনে মাযাহ : হাদিস নং – 3403, তিরমিযী : হাদিস নং – 1915 )

14. তিন আঙ্গুলের সাহায্যে খাওয়া : মহানবী (সঃ) তিন আঙ্গুল এর সাহায্যে খেতেন। প্রয়োজনে অধিক আঙ্গুল ব্যবহার করা যাবে।

15. পেট একদম ভর্তি করে না খাওয়া : খাওয়ার সময় পেটের কিছু খালি রাখা। এতে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভালো নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *