কুড়িগ্রাম জেলা সহকারী পোস্ট মাস্টারসহ ৬ জনের ৯ বছরের কারাদণ্ড

কুড়িগ্রাম জেলা সহকারী পোস্ট মাস্টারসহ ৬ জনের ৯ বছরের কারাদণ্ড

মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম:

জালিয়াতির মাধ্যমে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করায় দায়ের করা মামলায় কুড়িগ্রাম জেলা ডাকঘরের সহকারী পোস্ট মাস্টারসহ ছয় জনকে নয় বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর অঞ্চলের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ আদালতের বিচারক হায়দার আলী মামলার দায়েরের ১৯ বছর পর এ রায় প্রদান করেন।
এসময় চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পুলিশি পাহারায় আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। বাকি দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আবুল কালাম আজাদ, হাবিবর রহমান, আব্দুল মালেক, মতিউল ইসলাম, মওদুদ হাসান ও শ্রী অশোক কুমার নাথ।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম পোস্ট অফিসে কর্মরত থাকা কালে সহকারী পোস্টমাস্টার আবুল কালাম আজাদ, লেজার অপারেটর হাবিবুর রহমান, অশোক কুমার নাথ, আব্দুল মালেক, কাউন্টার অপারেটর মতিউল ইসলাম ও মওদুদ হাসান পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকের জমানো সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ৯ মে কুড়িগ্রাম পোস্ট অফিস পরিদর্শক এসএম শাহাদাত সুলতান বাদী হয়ে ওই ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দুদক ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে নয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৯২ টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। সেই সঙ্গে জরিমানার পুরো অর্থ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
একই সময় পলাতক অপর দুই আসামি মওদুদ হাসান ও অশোক কুমার নাথের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলায় সরকার পক্ষের দুদকের আইনজীবী একেএম হারুনর রশীদ বলেন, ‘আমরা সাক্ষ্য দিয়ে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।’আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রহমান জানান, তার মক্কেলরা ন্যায়বিচার পায়নি। এ রায় আমরা মানিনা। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *