কুড়িগ্রামের চিলমারী ব্রহ্মপুত্র তীরে ঐতিহাসিক অষ্টমী স্নান ও মেলা ।

লাখো পূর্ণ্যার্থীদের সমাগম

কুড়িগ্রামের চিলমারী ব্রহ্মপুত্র তীরে ঐতিহাসিক অষ্টমী স্নান ও মেলা ।

মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

পূণ্যতোয়া খ্যাত কুড়িগ্রামের চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে আগামী কাল (২৯মার্চ) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক অষ্টমীর স্নান অনুষ্ঠিত হবে। উপস্হিত লাখো পুণ্যার্থী পাপ মোচনের আশায় স্নান করে।

প্রতিবছরের ন্যায় তীরে এবারো মেলা বসবে পূর্ণ্যস্নান শেষে। গতবছর করনাকালীন লকডাউনের কারনে কিছুটা শিথিল হলেও এবারে পূর্ণ্যার্থীদের ভীর চোখে পরার মত। এ উপলক্ষ্যে জেলার চিলমারী ব্রহ্মপুত্র তীরে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্নান উৎসব কমিটি। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার পুণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র তীরে উপস্হিত হতে শুরু করেছেন। উপজেলার রাজারভিটা এলাকায় বুধবার ভোর চারটা থেকে শুরু হয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত স্নানের উত্তম লগ্ন ধার্য করা হলেও চলবে দিনব্যাপী স্নান কার্যক্রম ।

প্রায় ৪ শত বছর ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক অষ্টমী মেলা চৈত্রের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে পূণ্যস্নান সম্পন্ন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। চিলমারীর ব্রহ্মপুত্রের এ স্থানটিকে তারা তীর্থ স্থান হিসেবে বিবেচনায় এনে তারা স্নানের মাধ্যমে সম্পুর্ন পাপ মোচন ঘটে। সে বিশ্বাস কে ধারণ ও লালন করে লাখো পূর্ণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র তীরে সমবেত হন।

এবারের স্নান উদযাপনে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে আসা সকলেই তীরে আসতে শুরু করেছেন সকাল থেকেই। ইতোমধ্যে হাজার হাজার পুণ্যার্থী স্নান ঘাটের আশে পাশে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। তীর পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটায় তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র তীরের রমনা ঘাটের উত্তর দিক থেকে শুরু করে রুকুনুদৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত অষ্টমীর স্নান ঘাট হিসেবে নির্ধারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্নান উপলক্ষ্যে ঘাট এলাকায় দিনব্যাপী মেলার আয়োজন থাকবে। স্নান ঘাট ইজারা গ্রহণকারীকে মেলার স্থানে এবারে ছামিয়ানা টাঙানোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাতো থাকবেই।

মেলা কমিটির দেওয়া তথ্য মতে, অষ্টমী স্নান উপলক্ষে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র তীরে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পূণ্যর্থীদের বিচরণ হয়। লগ্ন অনুযায়ী নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে ধর্মীয় এ স্নান সেরে নেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। স্নান উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি স্নান ও মেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দুর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, ও আনসার সদস্য ছাড়াও সেচ্ছাসেবী মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঐতিহ্যবাহী এই পূণ্যস্নানে বাস, পিকআপ অটো, ভ্যান, রিকশা, , মাইক্রোবাস এবং মোটরযানে করে লোকজন আসা শুরু করেছে ঘাটে। প্রায় দুই যুগেরও পর এবছর বুধবার স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পুণ্যার্থীদের জন্য পবিত্র দিন বলে জানিয়েছে স্নান উৎসব কমিটি। কমিটির সহ সভাপতি তপন কুমার এনি বলেন, ‘ এ বছর দুই লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর আগমন ঘটবে বলে আমরা ধারণা করছি। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি সহ মুসলিম সম্প্রদাায়ের লোকজন। পুণ্যার্থীদের নানা ভাবে সহযোগিতা করছেন দলমত নির্বিশেষে।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, অষ্টমীর স্নান উপলক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *