কক্সবাজার ৪টি আসনে জাতীয় সাংসদ হয়ে যারা ধন্য হয়েছে

কক্সবাজার ৪টি আসনে জাতীয় সাংসদ হয়ে যারা ধন্য হয়েছে।

মোহাম্মদ শাহ এমরান, টেকনাফ (কক্সবাজার)

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নিবাচনে (২০২৪)
বিশ্বের চ্যলেঞ্জের মুখোমুখি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কক্সবাজার ৪টি আসেন কর্নধার হয়েছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, কক্সবাজার-০১
চকরিয়া-পেকুয়া আসনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমের কাছে পরাজিত হলেন বর্তমান সাংসদ চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব জাফর আলম। যদিও জাফর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কক্সবাজার জেলার চার সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের ঘোষণা করেন রিটানিং কর্মকর্তা।
যদিও ভোট গ্রহণের শেষ মুহুর্তে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

একইভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ, উখিয়া-টেকনাফ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর ও জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন সিকদার। এছাড়া গণ্ডগোলের কারণে চকরিয়া-পেকুয়ায় তিন কেন্দ্রের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে।
রোববার রাত ১টা পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া-পেকুয়া আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক।

তিনি দুই উপজেলার ১৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে (হাতঘড়ি প্রতীক) নিয়ে ৮১৯৫৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম (ট্রাক প্রতীক) পেয়েছেন ৫২৮৯৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২৯০৫৯ ভোট। এই আসনে গোলযোগের কারণে তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ফলাফল পাওয়া ১৫৫টি কেন্দ্রের ব্যবধান থাকা ভোটের সমপরিমান স্থগিত তিনটি কেন্দ্রের ভোট না থাকায় সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ আসনে ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ৫জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-০২
বেসরকারিভাবে বিজয়ীলাভ করেন, যার আমলে উন্নয়ন হয় বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র সহ সরকারের উন্নয়নকে পুঁজি করে কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে হ্যাট্টিক জয় পেয়েছেন আশেক উল্লাহ রফিক। বেসরকারি ফলাফলে ১১৮টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ৯৭৩৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিএনএম মনোনীত প্রার্থী নোঙ্গর প্রতীক আলহাজ্ব মো. শরীফ বাদশা পেয়েছেন ৩৪৪৯৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৬২৯০২ হাজার।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী মহেশখালী উপজেলায় আশেক উল্লাহ রফিক পেয়েছেন ৬২৯৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ্ব মো. শরীফ বাদশা পেয়েছেন, ৩১৫৩৮ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ খাইরুল আমিন (একতারা) ১১৭ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী জে,এইচ.এম ইউনুছ (মিনার) ২৩৯ ভোট, ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (চেয়ার) ১৬১ ভোট, ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি’র (এনপিপি) প্রার্থী মাহাবুবুল আলম (আম) ১১৬ ভোট পেয়েছেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটে অংশগ্রহণকারী ৬ প্রাথীর মধ্যে চার জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে মহেশখালীতে ৮১ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৪ জন। অপরদিকে কুতুবদিয়ার ৩৭ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৯৫ হাজার ৫২৩ জন।

সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-৩ কক্সবাজার সদর,রামু, ঈদগাঁও তিন আসনে সরকারের উন্নয়ন, কক্সবাজার রেল স্টেশন, কক্সবাজার বলেন বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতের পর্জটকদের অভয়ারণ্যে, ঈদগাঁও কে উপজেলা হিসাবে মানের উন্নয়ন সহ সকল উন্নয়নের ধার অব্যহতরেখেই বিজয় লাভ করে সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনিও হ্যাট্টিক করে জয় পেয়েছেন।
কক্সবাজার সদর, রামু, ঈদগাঁও তিন আসনে বেসরকারিভাবে নিবাচিত হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনি ১৭৬টি কেন্দ্রে ১৬৭০২৯ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ (ঈগল প্রতীক) পেয়েছেন ২১৯৪৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬১০ জন। ফলাফলে ১৪৫০৮৩ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন সাইমুম সরওয়ার কমল।
রামু উপজেলায় ৬৪টি কেন্দ্রে সাইমুম সরওয়ার কমল পেয়েছেন ৮৬ হাজার ২৪৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিজান সাঈদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৪৯ ভোট।

এই আসনের অন্যান প্রাথীরা হলেন, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তারেক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন (হাত গাড়ি), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির শামীম আহসান ভুলু (কুঁড়েঘর), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মোহাম্মদ ইব্রাহিম (টেলিভিশন)।

শাহীন আকতার, কক্সবাজার-০৪
বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণ উপজেলার আসনটি হলো উখিয়া-টেকনাফ আসনে বিজয় অর্জন যার আমলে সাবরাং টুরিজম পার্ক চলমান কাজ, জালিয়া দ্বীপ এক্সক্লুসিভ জোন মরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মান উন্নয়ন দেখিয়ে সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির উজ্জল নক্ষত্র তার সহধর্মিণী শাহীন আকতার দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়। একয় পরিবারের দলীয় প্রতিক নিয়ে চার চার বার বিজয় লাভ করেন অনেক চেলেঞ্জের মূখে তার প্রতিদ্বন্ধি ছিলো টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল বশর।

এই আসনে উখিয়া-টেকনাফ আসনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আকতার। এ নিয়ে টানা চারবার আসনটি দখলে রেখেছেন স্বামী-স্ত্রী।বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে শাহীন আকতার পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭০৭ ভোট।

এ আসনে সাতজন প্রার্থী ভোটে মাঠে ছিলেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৮ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী ফরিদ আলম আম প্রতীকে পেয়েছেন ৩২৭ ভোট, তৃনমুল বিএনপি প্রার্থী মুজিবুল হক মুজিব সোনালী আঁশ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪৬ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের ওসমান গনি চৌধুরী মিনার প্রতীক নিয়ে ৮২৫ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাইল ডাব প্রতীকে ২৪৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৪৯.০৫ শতাংশ।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৭১ জন। এর মধ্যে উখিয়া উপজেলায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১২ জন এবং টেকনাফে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৯ জন । ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, উখিয়ায় ভোট দিয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৯৭ জন ভোটার। অন্যদিকে টেকনাফে ৮৫ হাজার ৬৪৬ জন ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করেছেন।

এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ ভোট কেন্দ্রে অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান ও নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল বশর আড়াইটার দিকে ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো ষাড়ে বারটার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

কক্সবাজার জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান গনমাধ্যমকে বলেন, কক্সবাজার চার সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ করতে পেরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *