ইটভাটার মালিকেরা

শ্রীপুরে নিয়মের থোরাই কেয়ার করে ইটভাটার মালিকেরা
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া ইট তৈরি করার সুযোগ নেই। লাইসেন্স ছাড়া কেউ ইটভাটা চালু করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ না থাকায় গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবেশের ছাড়পত্র বা লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করে ভাটাগুলোতে ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে দেধারচে। এতে প্রতি ইটভাটায় প্রতিবছর হাজার টন কাঠ পোড়ানো হয়। এ জন্য উজাড় হচ্ছে জাতীয় সম্পদ বন বিভাগের গাছ-পালা।
সূত্রমতে শ্রীপুর উপজেলায় ২২ টি ইটভাটার মধ্যে ১২ টি ভাটার জেলা প্রশাসনের অনুমতি সনদ (লাইসেন্স) নেই। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেই।
এসব ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে যে নিয়মনীতি মেনে চলা উচিত, তা এ ভাটাগুলো পূরণ করতে পারছে না। এ ইটভাটাগুলো যে বায়ু দূষণের জন্য মারাত্মকভাবে দায়ী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শীতকালে বাংলাদেশের বায়ুর মান সামগ্রিকভাবেই নিচে নেমে যায় এবং ইটভাটাগুলোকে বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত বছর উপজেলার বরমা এলাকার মেসার্স অপু ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা, মেসার্স সালাউদ্দিন ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকা, গোসিংগা এলাকার এমইএন ব্রিকসকে ৪ লাখ টাকাসহ মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হযয়েছিল। বরকুল এলাকায় মেসার্স হুমায়রা ব্রিকস (এম এইচ বি), মেসার্স আশরাফুল ব্রিকস, মালিককেও জরিমানা করা হয়। এসব ভাটা গুলোর অনুমোদন না থাকায় ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এসব ইটভাটা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু হয়েছে এবং ইটাও বিক্রি করেছিল।

উপজেলার ইট প্রস্তুতকারী মালিকদের দাবি, প্রয়োজনীয় সব কাগজ জমা দেওয়ার পরও পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন থেকে ইট পোড়াতে অনুমোদন সনদ দেওয়া হচ্ছে না।

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নয়ন মিয়া বলেন, যেসব ইটভাটাগুলোর কোন অনুমতি সনদ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই সেইসব ইটভাটাগুলো ভেঙে দেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *