আলু উৎপাদনে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে চাঁদপুর।

আলু উৎপাদনে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে চাঁদপুর।

মুন্সিগঞ্জের পরেই চাঁদপুরের স্থান।মেঘনা ধনাগোদা’ ও সেচ প্রকল্প’র অভ্যন্তরসহ চাঁদপুর জেলার নদী উপকূলীয় এলাকায় আলু চাষিরা এবার আলুর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা প্রকৃতিতে চলতি রবিশস্য মৌসুমে এবার আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জেলায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মেট্টিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন কৃষি বিভাগ। এ পর্যন্ত জেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে।

তবে সর্বশেষ চিত্রাংয়ের কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় আলুসহ অন্যান্য সবজি আবাদ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চাঁদপুর সদরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে- ৩৩ হাজার মেট্টিক টন, মতলব উত্তরে ১৫ হাজার ৬০০ মেট্টিক টন, মতলব দক্ষিণে ৫৫ হাজার ৩০০ মেট্টিক টন, হাজীগঞ্জে ১১

হাজার ২০০ মেট্টিক টন, শাহরাস্তিতে ১৫০০ মেট্টিক টন, কচুয়ায় ৪২ হাজার ২০০ মেট্টিক টন, ফরিদগঞ্জে ২ হাজার ২০০ মেট্টিক টন ও হাইমচর উপজেলায় ২ হাজার মেট্টিক টন।

প্রতিটি মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের বর্ণিল সমারোহ। বন্যা না হওয়ার কারণে রোপা-আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে রবিশস্যের উপযোগী চাষযোগ্য জমিতে কৃষকরা আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

সরকার কৃষকদের কৃষি উপকরণসহ রাসায়নিক সার বিনামূল্যে যথাসময়ে বিতরণ করায় কৃষকদের আগাম আলু লাগানো সম্ভব হয়েছে। এবারে সদর উপজেলার বিশেষ করে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর, কুমারডুগী ও ঘোষেরহাট এলাকার বড় বড় মাঠে আলুর ব্যাপক আবাদ হয়েছে।

আলু চাষী আবদুল মতিন বলেন, ‘নিজের জমি না থাকায় নগদ টাকায় অন্যের জমি নিয়ে প্রতিবছর আলুর চাষ করি। গত বছর আলুর চাষ করে প্রায় এক লক্ষ টাকা লাভ করেছি। তাই এ বছর ১২০ শতাংশ (১৫ কড়া) জমিতে ডায়মন্ড ও বিএডিসি জাতের আলুর চাষ করি। প্রতি কড়া জমিতে সার, বীজ,

কীটনাশক ও সেচসহ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হবে। রোগবালাই না থাকলে ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রতি কড়া (৮ শতাংশ) জমিতে ৩০ মন করে আলু পাওয়ার আশাবাদী। এতে করে বেশ লাভবান হবো।’

কৃষি বিভাগ বলছে, চাঁদপুরে বেসরকারিভাবে ১২টি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। এগুলোর ধারণক্ষমতা মাত্র ৭০ হাজার মেট্টিক টন। কম-বেশি সব উপজেলাই আলুর ফলন ও চাষাবাদ হয়ে থাকে। জেলার ১২ হিমাগারে ৭০ হাজার মেট্টিক টন আলু সংরক্ষণ করার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।

বাকি আলু হিমাগারের বাইরে থাকে। এর মধ্যে কিছু পরিমাণ আলু উৎপাদন মৌসুম জমিতে বিক্রি হয়ে আসছে। বাকি আলু কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃত্রিমভাবে মাচায় সংরক্ষণ করা হয়।

চাঁদপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, আলুর জন্য ক্ষতিকর হলো ঘন কুয়াশা যা এখনো দেখা যায়নি। কুয়াশার কারণে নাবিধ্বষা রোগ হয়ে আলু গাছের পচন ধরে। এমন রোগ দেখা দিলে প্রতিষেধক হিসেবে ছত্রাকনাশক ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

পাশাপাশি সকালে সেচ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া আলুর চাষ করলে একই মৌসুমে আলু তোলার পর পরেই কুমড়ার চাষ করে অতিরিক্ত লাভবান হওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *