আমি পারি আমি পারবো আমি বিশ্বজয় করে ছাড়বো

জীবন মানেই সংগ্রাম। পৃথিবীতে অজস্র নজির রয়েছে মানুষ সংগ্রাম করেই টিকে আছে। সংগ্রাম করেই বেঁচে আছে সংগ্রাম করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে কোন কিছুই এমনি হয়নি তাই আপনাকে বাঁচতে হলে সংগ্রাম করতে হবে তাই আপনাকে বাঁচতে হলে চেষ্টা করতে হবে তাই আপনাকে বাঁচতে হলে ভালো কিছু করতে হলে বারবার পড়ে গিয়ে ঘুরে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং সাফল্যের পথে চলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা না পান। আজকে এমনই উজ্জ্বল কিছু দৃষ্টান্ত আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি আশা করি অত্যন্ত মূল্যবান এই উদাহরণগুলো আপনার কাজে লাগবে।

১.সীমাহীন কষ্ট, লাঞ্ছনা, অবহেলা সহ্য করেছেন শুধুমাত্র গায়ের বর্ণ কালো হওয়ার কারণে সেই অবহেলিত কালো মানুষটি পুরো বিশ্ববাসীকে তার দুর্দান্ত লেখনীতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন তাই পৃথিবীর বিখ্যাত আমেরিকার প্রডেগী একাডেমী থেকে তাকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে তার অসাধারণ কর্মের জন্য তিনি আর কেউ নন তিনি কিংবদন্তী কবি মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম।

২.নিঃস্ব, অসহায়, হতদরিদ্র যার মা মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করত নিজে একজোড়া জুতা কেনার জন্য পরিষ্কারক এর কাজ করেছেন যিনি বিদ্যালয় এর গণ্ডি পেরোতে পারেননি তার কর্মকান্ড দ্বারা পৃথিবীর সবচাইতে দামি ফুটবলার তিনি তিনি আর কেউ না জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

৩.শিয়ার সোল রাজ হাই স্কুলে অভাবের জন্য কবি পড়তে পারেননি নিঃস্ব, অসহায়, হতদরিদ্র, যিনি স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি পরবর্তীতে তার কর্মের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান সূচক ডিলিট ডিগ্রী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা পান তিনি আর কেউ নন সর্বজন শ্রদ্ধেয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

৪.নিঃস্ব, অসহায়, হতদরিদ্র, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ, আত্মীয়-স্বজন হারা ধ্বংসস্তূপ হয়ে গেছে এমন একটি জায়গা থেকে উঠে এসেছেন বান কি মুন যাকে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকতে হতো একটা সময়। ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে তিনি নিজেকে বড় করার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে গেছেন পরবর্তীতে তিনিই হয়েছেন পৃথিবীর বিখ্যাত জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।

৫.যিনি প্রাথমিকে দুইবার ফেল করেন মাধ্যমিককে তিনবার ফেল করেন ৩০ বার চাকরির জন্য আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন নয় বছর ৭০ মাইল সাইকেল চালিয়ে ফ্রি পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করেন ছাত্রজীবনের তিনিও ছিলেন অত্যন্ত খারাপ ছাত্র ‌। আজকে বারবার ব্যর্থ হওয়া সেই মানুষটি ৪২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পৃথিবী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা

৬.একজন কয়েদীর কথা জানি। কয়েদী নাম্বার ৪৬৬৬৪, ২৭ বছর জেলে থাকার পরেও তিনি নোবেল শান্তি পুরষ্কার জিতেছেন। তাঁর নাম:- তিনি নেলসন মেন্ডেলা।

৭.আরেক পিতৃপরিচয়হীন যুবকের কথা জানি। তার থাকার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের মেঝেতে ঘুমাতেন। ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতেন, যেটা দিয়ে খাবার কিনতেন। প্রতি রোববার রাতে তিনি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতেন শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। তাঁর নাম:- তিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও স্টিভ জবস।

৮.আরেক যুবকের নাম জানি, মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। তাঁকে বলা হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সফল ড্রপ আউট। স্যাট পরীক্ষায় ১৬০০ নম্বরে ১৫৯০ পান তিনি। কিন্তু কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরির নেশায় তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাম কাটান। ড্রপ আউট হওয়ার ৩২ বছর পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন তিনি। তাঁর নাম:
– তিনি বিল গেটস।

৯.আরেক এতিমের কথা জানি। ১১ বছর বয়সে এতিম হন। ১২ বছর বয়সে ঘর থেকে পালিয়ে যান। হতাশ হয়ে ১৯ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। অনেক বিখ্যাত বইয়ের লেখন তিনি তার মধ্যে “আমার বিশ্ববিদ্যালয়” একটি, যদিও তিনি কোনদিন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা সুযোগ পান নাই। তিনি হলেন:
– বিখ্যাত লেখক, নাট্যকার আর রাজনীতিবিদ;
-মাক্সিম গোর্কি।

১০. আরেকজন, বাবার সাথে মুদি দোকান করতো। পরিবারে এতই অভাব ছিলো যে, স্কুল নাগাদ পড়েই তাকে থেমে যেতে হয়েছিলো। সেই ব্যক্তিই একসময় হয়ে উঠে বিরাট বিপ্লবী নেতা। তিনি হলেন:
– চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং।

১১.এমন একজনকে জানি যিনি অভাবের তাড়নায় কুলিগিরি করতো। একদিন বাসের কন্ডাক্টরের কাজের জন্য গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। যে যুবকটি অংকে পারদর্শী নয় বলে বাসের কন্ডাক্টর হতে পারেনি, পরবর্তীতে সে-ই হন ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী। তিনি হলেন:
– জন মেজর।

১২.পড়ালেখায় মারাত্মক দুর্বল ছিলেন তিনি। কোনো কিছু মনে থাকত না। ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে থাকতেন। ফেল করেছেন বারবার। ক্লার্ক এর চাকরিও করেছেন তিনি। পুরো পৃথিবীকে অবাক করেছেন তিনি তার থিউরি অফ রিলিটিভিটি দিয়ে। নোবেলও পেয়েছেন তিনি। তার নাম:
– আলবার্ট আইনস্টাইন।

১৩.ক্লাসের সবচেয়ে দুর্বল ছাত্র ছিলেন তিনি। স্কুল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিলো তাকে। তিনি পৃথিবী আলোকিত করেছেন তাঁর আবিষ্কার দিয়ে। তাঁর নাম:
-টমাস আলভা এডিসন।
১৪. শব্দগুলোকে তিনি উল্টা লিখতেন। পড়ালেখায় একদম শুন্য। উড়োজাহাজ আবিস্কারের ৪০০ বছর আগে তিনি উড়োজাহাজের মডেল এঁকে গেছেন। তিনি হলেন:
– লিওনার্ড ডা ভিঞ্চি।

১৫.পরীক্ষায় তিনি সবসময় ফেল। ২২টা একাডেমিক পুরষ্কার জিতেছেন জীবদ্দশায়। তিনি মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাক এর জন্মদাতা। মিকি মউসের গলার স্বর তার নিজের দেওয়া। তিনি হলেন:
-ওয়াল্ট ডিসনি।

১৬.শব্দের খেলা তিনি বুজতেন না। ৭ নাম্বারকে তিনি বলতেন উল্টা নাক!! এই স্প্যানিশ ভদ্রলোক একজন কবি, লেখক, পেইন্টার, কেমিস্ট, স্টেজ ডিজাইনার, ভাস্কর। তিনি হলেন:- পাবলো পিকাসো।

পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই ইউনিক, তার ভাবনাগুলো তার মতই। সবাই যা পারে, আমাকেও তা-ই পারতে হবে, এমন কথা নেই! শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে কেন? আমাদের সমস্যাটা এখানেই।

আমাদের প্রত্যেক ঘরে ঘরে টপার আর রেঙ্কারস চাই। জিপিএ ৫, গোল্ডেন পেতে হবে! সবাইকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, ম্যাজিস্ট্রেট…. হতেই হবে আঙ্গুলকে টেনে লম্বা করতেই হবে, যেভাবেই হোক তাই দরকার হলে আঙ্গুল ভেঙ্গে যাক

একটা কথা মনে রাখতে হবে, “পৃথিবীতে সবাই জিনিয়াস, কিন্তু আপনি যদি একটি মাছকে তালগাছ বেয়ে ওঠার ক্ষমতা দিয়ে বিচার করেন, তবে সে সারাজীবন নিজেকে অপদার্থই ভেবে যাবে।”
…. আলবার্ট আইনস্টাইন।
কোন প্রতিবন্ধকতাই প্রতিবন্ধকতা নয়,
জীবনের প্রতিটি কাজে আত্মবিশ্বাস এনে দিবে জয়।
আমি পারি আমি পারবো,
আমি বিশ্ব জয় করে ছাড়বো।

কিংবদন্তী কবি মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম
সঠিক সময় সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে সঠিকভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান আত্মবিশ্বাসের সহিত কোনভাবেই দমে যাবেন না অবশ্যই একদিন আপনিও পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *