আনন্দে ভাসলেন সিলেটের জয়ের নায়ক হৃদয়

আনন্দে ভাসলেন সিলেটের জয়ের নায়ক হৃদয়

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার (০৭ জানুয়ারি) ৬ উইকেটে জিতেছে সিলেট। বরিশালের ১৯৪ রান পেরিয়ে গেছে ৬ বল বাকি থাকতে। টানা দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে সিলেট।

১২০ বলে ১৯৫ রান তাড়া করে জয় পেতে যেমন শুরু দরকার তেমনটা তারা পায়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে কলিন আকারম্যান নিজের ভুলে রান আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। শুরুর বিপদ কাটিয়ে সিলেট সেখান থেকে প্রতিরোধ পায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে। শান্ত রয়েশয়ে খেললেও তৌহিদ রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন।

শান্ত ৪০ বলে ৪৮ রানে থামলেও তৌহিদ তুলে নেন ফিফটি। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া এ ব্যাটসম্যান ৩৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ রান করেন।

ব্যাট হাতে ২২ গজ যেমন মাতালেন হৃদয়, তেমনি ম্যাচ শেষে মাইক্রোফোনের সামনেও রইলেন বেশ সাবলিল। ম্যাচের নানা বাঁকের কথা যেমন বললেন, তেমনি শোনালেন স্বপ্নের জগতে বিচরণের গল্পও। তার স্বপ্ন ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিমদের সঙ্গে এক দলে খেলা।

জাতীয় দলে সেই সম্ভাবনা এখন আর নেই। সামনের সময়টায় দারুণ কিছু করে হৃদয় যদি জাতীয় দলে আসতে পারেন, মুশফিক-সাকিব-তামিমদের সঙ্গে খেলতে পারবেন। তবে মাশরাফি তো আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সীমানাতেই নেই।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও যে কোনো সময় থেমে যেতে পারেন। এবারের বিপিএল হৃদয়কে সুযোগটা করে দিল
মাশরাফি-মুশফিকদের সতীর্থ হওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে এসে হৃদয় শোনালেন মাশরাফি – মুশফিকদের কাছ থেকে কতটা প্রেরণা তিনি পেয়েছেন। আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে তৃপ্তির কথাও তুলে ধরলেন ২২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, মাশরাফি ভাইয়ের কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই। উনি তো আমাদের সবার অধিনায়ক।

প্রথম থেকেই উনি আমাকে বলে আসছেন, এখনও বললেন যে, উনার প্রথম টার্গেটই আমি ছিলাম, আমাকে নেবেন দলে। আমার স্বপ্ন ছিল মাশরাফি ভাই, মুশফিক ভাইদের সঙ্গে খেলার। সেটা পারছি এবার এবং ভালো একটা গাইডলাইনের ভেতর আছি।

সবচেয়ে বড় কথা, স্বাধীনতা পেয়েছি ভালোভাবে এবং চেষ্টা করছি তা কাজে লাগাতে।”

১৯৫ রান তাড়ার কাজটি সহজ নয় কখনোই। হৃদয় জানালেন, লক্ষ্য জানার আগে থেকেই তারা রান তাড়ার বিশ্বাস পেয়েছিলেন মাশরাফি-মুশফিকের কাছ থেকেই। তিনি বলেন, প্রথম ইনিংস খেলার মধ্যেই মুশফিক ভাই, মাশরাফি ভাইরা বলছিলেন যে, উইকেট অনেক ভালো আছে, বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছে, ২০০ রান হলেও এখানে তাড়া করার মতো।

আমরা সেটা সবসময় বিশ্বাস করেছি। প্রথম ইনিংস শেষেও ড্রেসিং রুমে একটা কথাই হয়েছে যে, শুরুটা ভালো করতে পারলে এই রান আমরা তাড়া করতে পারব। মাশরাফি ভাই, মুশফিক ভাই যে পরিকল্পনা দিয়েছেন, বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

হৃদয়ের তিন নম্বরে নামাও ছিল কিছুটা চমক জাগানিয়া। আগের ম্যাচে সিলেটের হয়ে তিন নম্বরে খেলেছিলেন জাকির হাসান। বেশ ভালোও খেলেছিলেন। কিন্তু এই ম্যাচে প্রথম ওভারে কলিন আকারম্যান রান আউট হওয়ার পর উইকেটে যান হৃদয়।

তিনি জানালেন, দলীয় পরিকল্পনারই অংশ ছিল এটি। আমি আগে থেকেই জানতাম যে এখানে নামতে হবে। মাশরাফি ভাই, মুশফিক ভাই আগে থেকেই বলেছিলেন যে, ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের কারণে প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রথম ইনিংস শেষেও মুশফিক ভাই বলেছেন, তৈরি যেন থাকি, ডানহাতি ওপেনার আউট হলেই আমাকে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *