আজ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান মেলা

আজ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান মেলা

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

আজ (১৬ এপ্রিল ) মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রক্ষপুত্র নদে শুরু হলো ৩ দিন ব‍্যাপী সনাতন সম্প্রদায়ের অষ্টমী স্নান মেলা। গত ২ দিন থেকে ব্রক্ষপুত্র নদের বালুর উপর তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন স্টল, দোকান, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব‍্যবস্থা ও টয়লেট।

আজ মঙ্গলবার ভোরে “হে ব্রক্ষপুত্র মহাভাগ শান্তর্ণ কুলনন্দন অমুঘা গর্ভ সন্তুুতো পাপষ লৌহিত‍্য মে হরো” অর্থাৎ “হে ব্রক্ষপুত্র মহাভাগত মোর পাপ মোচন করো” মন্ত্র পড়তে পড়তে পূণ‍্যার্থীরা স্নান কার্য সম্পাদন করবেন।

প্রতি বছর শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রক্ষপুত্র স্নান উপলক্ষে গত ৩ দিন পূর্ব থেকেই চিলমারীতে শুরু হয়েছে বিভিন্ন রকমের সাজ।দুর দুরান্ত থেকে ক্ষুদে ব‍্যবসায়ীরা চলে এসেছে চিলমারীতে।

উপজেলার চিলমারী নদীবন্দরের রমনা ঘাট থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণে জোড়গাছ পযর্ন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাব‍্যাপী বালুর উপর তৈরী হয়েছে বিভিন্ন রকমের পণ‍্যের স্টল। আসা শুরু করেছে বাইস কোপ, সার্কাসসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনার দোকান।

রণপাগলী সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পুরহিত বুদ্ধদেব চক্রবর্তী জানান, আজ ভোর রাত ৪ টা থেকে স্নান শুরু হবে। তবে মুল স্নান হবে ভোর ৪টা থেকে বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট পযর্ন্ত। এবারের স্নান চলবে সারাদিন ব‍্যাপী।

বাংলাদেশ পূজ উদযাপন পরিষদ, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি শচিন্দ্র নাথ বর্মণ জানান, প্রতি বছরের ন‍্যায় এবারও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, চীনসহ অন‍্যান‍্য দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ‍্যার্থীরা অষ্টমী স্নান মেলায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এবারও প্রায় ৫ লক্ষাধিক পুণ‍্যার্থীর সমাগম হবে চিলমারী বন্দরের অষ্টমী স্নান মেলায়।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিনহাজুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে অষ্টমী স্নান মেলা স্থলে অস্থায়ী পুলিশ ক‍্যাম্প স্থাপন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন‍্য নলকূপ স্থাপন, মহিলাদের কাপড় বদলানোর জন‍্য সরকারি, বেসরকারী ও এনজিওদের সহায়তায় ২ শতাধিক তাবু থাকবে। নিরাপত্তার জন‍্য বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও ভিডিপির পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন সহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পুলিশী পাহারার ব‍্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পুরাণ মতে, ত্রেতাযুগে পরশুরাম মাতৃ হত্যা পাপের দায়ে তার হাতে কুঠার আকটে যায়। বহুতীর্থ ভ্রমন করে তার কুঠার খসল না। অবশেষে কৈলাস শৃঙ্গের ব্রহ্মকুন্ডে স্নান করা মাত্রই তার হাতের কুঠারটি খসে পড়ল। সেদিন ছিল শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি। পরশুরাম অনুধাবন করলেন, এ অতীব পবিত্র জলের ধারাটি যদি সমতলভুমিতে আনা যায়, তবে মানুষের কল্যাণ ও মোক্ষ লাভ হবে।

শুভ ইচ্ছা যার, ঈশ্বর সহায় তার। তিনি কুঠারে লাঙ্গল বেঁধে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, পাহাড় পর্বত পেরিয়ে ব্রহ্মপুত্রের জলের ধারাকে সমতলভুমিতে নিয়ে আসেন। তিনি আসামের ধুবরি হয়ে কুড়িগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে চিলমারীতে প্রথম বিশ্রাম নেন। এর পর লাঙ্গলবন্দের দিকে চলেন। কিন্তু লাঙ্গলবন্দে এসে লাঙ্গলের চাষ বন্দ হয়ে যায় । পরশুরাম বুঝতে পারলেন, তার মহৎ উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। লাঙ্গলবন্দ থেকে পরশুরাম ব্রহ্মপুত্রের মাহাত্ম্য প্রচারে বেরিয়ে পড়লেন। পৌরানিক মতে, ব্রহ্মার আদেশে অষ্টমী তিথিতে জগতের সব স্থানের পুণ্য ব্রহ্মপুত্রে এসে মিলিত হয়। এই ব্রহ্মপুত্রকে ঐশ্বরিক ও অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন নদ মনে করা হয় । ব্রহ্মপুত্রের জলধারা ব্রহ্মার তেজজাত।

পরশুরামের আদেশে শুধুমাত্র চৈত্রের শুক্লাষ্টমীতে কয়েক ঘন্টার জন্য ব্রহ্মপুত্রের পুত সলিল এতই বিশুদ্ধ ও অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন থাকে, যা শরীলে স্পর্শ মাত্রই পাপ মোচন হয়। শারীরিক রোগও দুর হয়। স্নান মাত্রই দেহ ও মনে সজীবতা আনে এবং কোন ঠান্ডা অনুভব হবে না। তাই ভক্তি ও বিশ্বাসে ব্রহ্মপুত্রে ডুব দিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *